আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কোনো ছাত্রী কলেজে ভর্তি হবেন তো, কুমারিত্ব রক্ষার অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে তবেই ভর্তি হতে হবে। এমনই এক নিয়ম চালু করেছে উত্তর-পশ্চিম চীনের একটি কলেজ। তবে কলেজটি দাবি করেছে শুধুমাত্র একটি কোর্সের ক্ষেত্রেই এ নিয়ম করা হয়েছে।
এদিকে কলেজটির এ অদ্ভূত নিয়মের কথা ছড়িয়ে পড়লে অনলাইনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন দেশের লোকজন ও অ্যাক্টিভিস্টরা। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে কলেজটি। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ভাবতেই পারেনি যে, বিষয়টি নিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে।
গত শতাব্দীর ৮০-এর দশক পর্যন্ত আমেরিকায় কলেজগুলোতে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের অঙ্গীকারনামার প্রচলন ছিল। চীনে এ ধরনের নিয়মের কথা ভাবতেই পারছেন না সেদেশের লোকজন। তারা একে ‘ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণকারী’ নিয়ম বলেও অভিহিত করেছেন।
চীনা ইকোনমিক ডেইলি ওয়েবসাইট- এর বরাত দিয়ে বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, উত্তর পশ্চিম চীনের শানজি প্রদেশের শিয়ান শহরের ওই কলেজে ‘নো রিগ্রেটস ইউথ’ নামের একটি কোর্সের সময় ছাত্রীদের ‘কুমারিত্ব রক্ষার এক অঙ্গীকারনামায়’ স্বাক্ষর করতে বলা হয়।
এই অঙ্গীকার পত্রের যে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে- তাতে লেখা- ‘আমি আমার নিজের কাছে, এবং পরিবার, বন্ধু ও আমার ভবিষ্যৎ স্বামী সন্তানদের কাছে অঙ্গীকার করছি যে, আমি একজনের সঙ্গে সারাজীবনব্যাপি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবার আগে পর্যন্ত সব রকমের প্রাক-বৈবাহিক যৌনক্রিয়া থেকে বিরত থাকবো।’
এতে বিয়ের পরও অন্য কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে না পড়ার অঙ্গীকারের কথাও রয়েছে। চীনা ওই ওয়েবসাইটে কলেজটির নাম প্রকাশ করা হয়নি তবে অনলাইনে এখবর ছড়ানোর পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এসব বিতর্কে অনেকেই বলেছেন – ‘বিয়ের আগে কেউ যৌনসম্পর্ক করবে কিনা এটা তার নিজ সিদ্ধান্তের ব্যাপার। বিশ্ববিদ্যালয় এতে নাক গলাচ্ছে, এটা সত্যিই চিন্তার কথা।’
কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, এতে অন্যায় কিছুই নেই। তাদের মতে ছেলেদের জন্যও এরকম অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষরের নিয়ম থাকা উচিত।
আলোচিত কলেজটির একজন শিক্ষক বলেছেন, ছাত্রছাত্রীদের ভালোর জন্যই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তবে তার যে এমন প্রতিক্রিয়া হবে তা তারা ভাবেন নি।

