আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন ওবামা সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবার গাঁজার উপরে মুখ খুললেন। গাঁজা চাষ এবং সেবনকে বৈধ করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমদ্ধেই চলছে অনেক তোড়জোড় তারমদ্ধে হিলারির এই বক্তব্য যেন পরোক্ষভাবে গাঁজাকে প্রকাশ্য করারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সম্প্রতি গাঁজাকে বৈধ করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওহায়ো স্টেটে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভোটে অবশ্য প্রকাশ্যে গাঁজা খাওয়ার বিষয়টি অনুমতি পায়নি। ওহায়োর পরে মেক্সিকোর আদালত চারজনের একটি দলকে প্রকাশ্যে গাঁজা চাষ এবং সেবন করার অনুমতি প্রদান করেন। এবার হিলারি ক্লিনটন ও একই সুরে কথা বললেন। তিনি গাঁজার উপরে বিধিনিষেধ শিথিল করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের প্রথমেই উচিত চিকিৎসাকাজে ব্যাবহৃত গাঁজার উপর গবেষণার অনুমোদন দেয়া কারন আরও অনেক স্টেটেই চিকিৎসার প্রয়োজনে গাঁজার উপকারিতা গবেষণা করে তারপর সেটাকে বৈধ করেছে। এটা করলে আমরা দুটো ভিন্ন অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগাতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসাকাজে ব্যাবহৃত গাঁজার ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে এটা অনেকধরনের শারীরিক পরিস্থিতেই চমৎকার কাজে দেয়। কিন্তু বর্তমান আইনে আমরা এটাকে ঠিকমত গবেষণাও করে দেখতে পারছিনা। কিন্তু কেন? কারন গাঁজাকে গণ্য করা হয় স্কেজ্যুল-১ ড্রাগ হিসাবে এবং স্কেজ্যুল-১ ড্রাগের উপরে গবেষণা নিষিদ্ধ।’
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেনট অ্যাডমিনিসট্রেশান(ডিইএ) তালিকায় গাঁজা স্কেজ্যুল-১ ড্রাগ হিসাবে চিহ্নিত অর্থাৎ এটাকে কোন প্রকার চিকিৎসাকাজে ব্যাবহার করা যাবে না কারন এটা অতিমাত্রায় উদ্দীপক।
ক্লিনটন বলেন, ‘আমি চাই গাঁজাকে স্কেজ্যুল-১ ড্রাগ থেকে স্কেজ্যুল-২ ড্রাগ এ নিয়ে আসতে যাতে গবেষকরা এটাকে নিয়ে পরীক্ষা করে বলতে পারেন কখন কি মাত্রায় সেবন করলে মানুষ এটা থেকে উপকার পাবে।’
হিলারি ক্লিনটন অবশ্য এখনি গাঁজাকে বৈধ করার কথা বলেননি। বরঞ্চ তিনি আগে দেখতে চান এটা কিভাবে কাজ করে।সাংবাদিকরা তাকে গাঁজা বৈধ করার বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করলে তিনি সরাসরি ‘না’ উত্তর দিয়েছেন। তার প্রস্তাব হচ্ছে আগে গাঁজার উপকারিতা এবং অপকারিতা নিয়ে গবেষণা করা হোক, তারপর বৈধ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া।
তবে গাঁজাপ্রেমী মানুষেরা অবশ্য ক্লিনটনের এই বক্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মারিজুয়ানা মেজরিটির চেয়ারম্যান টম এঙ্গেল বলেছেন, ‘এটা নিঃসন্দেহে একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এর ফলে গবেষণার সুযোগ কিছুটা বাড়লেও বর্তমানে মারাত্মক অসুস্থ যে সব মানুষ গাঁজা ব্যাবহার করছে তাদের রক্ষার্থে এর কোন ভুমিকা নেই। কেবলমাত্র গাঁজা সেবন করাটা অপরাধের সংজ্ঞা থেকে বাদ দিলেই সেটা সম্ভব।’

