চাঁদপুর প্রতিনিধি : প্রায় অর্ধকোটি টাকা খরচ করে মতলব উত্তর উপজেলার লামচরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণ করা হলেও তাতে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি এখনো। গত এপ্রিল মাসে একজন মাত্র শিক্ষক দিয়ে চালু করা হয় বিদ্যালয়টি। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে ৪৩ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে ‘বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় ১৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্প’ এর মাধ্যমে লামচরি গ্রামে নির্মাণ করা হয় ওই বিদ্যালয়টি। বিধি অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও কোনো শিক্ষকের পদ সৃষ্টি বা নিয়োগ করা হয়নি। নান্দুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রেষণে সহকারী শিক্ষক মো. শাহ আলমকে এ বিদ্যালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণিতে ১২ জন (৮ জন ছাত্র ও ৪ জন ছাত্রী), প্রথম শ্রেণিতে ১৭ জন (১৪ জন ছাত্র ও ৩ জন ছাত্রী), দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৫ জন (২ জন ছাত্র ও ৩ জন ছাত্রী) এবং ৩য় শ্রেণিতে ৯ জন (৪ জন ছাত্র ও ৫ জন ছাত্রী) ভর্তি হয়েছে। ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণিতে আগামী বছর ভর্তি নেয়া হবে।
তৃতীয় শ্রেণীতে ৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাশ করাচ্ছেন শিক্ষক শাহআলম। তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া বলেন, ‘সব ক্লাস একজন স্যারই করান।’ শিক্ষার্থী ইয়াছমিন বলেন, ‘স্কুলে সামনে মাঠ নেই। মাঠ ভরাট না থাকায় আমরা খেলাধুলা করতে পারছি না।’
শিক্ষক মো. শাহআলম বলেন, ‘আমি একাই সব দায়িত্ব পালন করছি। বিদ্যালয়টি বছরের এপ্রিলে চালু হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রী কম। আগামী বছর প্রচুর শিক্ষার্থী ভর্তি হবে আশা করছি।’
বিদ্যালয়ের সভাপতি আবদুস শুক্কুর মাস্টার বলেন,‘শিক্ষক নিয়োগ করতে দপ্তরে কয়েকবার জানিয়েছি।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কবির হোসেন শিক্ষক সঙ্কটের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘দ্রুত ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক সঙ্কটের সমাধান করা হবে। জানুয়ারি থেকে বিদ্যালয়টি পুরোপরি চালুর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

