ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : এবারের অতি বৃষ্টিতে ঝিনাইদহের অধিকাংশ সড়ক-মহাসড়ক এবং গ্রামীণ রাস্তা জনসাধারণের চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে জনসাধারণের দুর্ভোগ চরমে গিয়ে পৌঁছেছে।
শহরের প্রেরণা ৭১ এর আশপাশ দিয়ে বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ইট-পাটকেল দিয়ে গর্তগুলো বন্ধ করলেও স্বাভাবিকভাবে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের রাস্তা খুড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। আবার কোনো কোনো সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাটি দেবে ক্যানেলের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও বিটুমিন উঠে পাথর খোয়া বের হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) এবং এলজিইডি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার ছয়টি উপজেলায় মোট রাস্তার পরিমাপ ১৭ হাজার ৭শ ৭০.৬৭ কিলোমিটার। যেখানে পাঁকা রাস্তার পরিমাণ ১২ হাজার ৭শ ১২.৬৭ কিলোমিটার এবং কাঁচা রাস্তার পরিমাণ ৫ হাজার ৫৮ কিলোমিটার। এছাড়া ৪টি জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ৭৫.৫৬ কিলোমিটার, ২টি আঞ্চলিক সড়কের দৈর্ঘ্য ৫০.০০ কিলোমিটার, ৪টি জেলা সড়কের দৈর্ঘ্য ২ শ ৭৬.৬৪ কিলোমিটার এবং একটি এলজিইডি সড়কের দৈর্ঘ্য ৩.৪৭ কিলোমিটার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ-যশোর, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ-মাগুরা, ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কে গর্তের কারণে প্রায়ই বাস-ট্রাক দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের আমের চারা থেকে ডাকবাংলা ব্র্যাক অফিস পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন নির্মাণের নামে খুঁড়ে রাখা হয়েছে। ফলে দূরপাল্লার পরিবহনসহ ছোট যানবাহন চলাচলে চরম বিপাকে পড়েছে।
এছাড়াও শহরের আরাপপুর, চুয়াডাঙ্গা বাসস্টান্ড, হামদহ, তেতুলতলা, ছালাভরার ব্রিজ, বারোবাজার, শহরের আলফাজ মার্কেটের সামনে, শহরের পাগলা কানাই গ্রামবাংলার স্ট্যান্ড, শৈলমারি বেলেখাল ভায়া গান্না সড়ক, গান্না ফুল বাজার- ইকড়া সড়ক, চান্দুয়ালি বাজার ভায়া জিয়ালা-রতনপুর আমেরচারা সড়ক, ডাকবাংলা বাজারের রফিক সড়ক-গবরাপাড়া ভায়া হরিণাকুণ্ডু হাসপাতাল সড়ক, হরিণাকুণ্ড হরিশপুর-ত্রিবেনি সড়ক, পঞ্চগ্রাম-চারাতলা সড়ক, শৈলকুপার আবাইপুর মিনগ্রাম ভায়া মাগুরা সড়ক, হাটফাজিলপুর-বাকড়ি সড়ক, এমপির মোড় শেখরা ভায়া বাকড়ি সড়ক, হাট গোপালপুর- কুশাবাড়িয়া সড়ক, টিকারি বাজার-লক্ষীপুর সড়ক, লাউতলা-বালিয়াডাঙ্গা ভায়া বারোবাজার সড়ক, মহেশপুরের খালিশপুর-ভৌরবা সড়কসহ গ্রামাঞ্চলের পাকা-কাঁচা রাস্তাগুলো সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। এসব সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
ঝিনাইদহের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল আলম জানান, ঝিনাইদহের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ‘খুলনা বিভাগ উন্নয়ন এবং আমব্রেলা’ নামে দুটি প্রকল্প আনুমোদনের চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নতুনভাবে রাস্তা নির্মাণ এবং পরবর্তীতে রাস্তা সংস্কারের জন্য সেখানে ২৫ শতাংশ আতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। অফিসিয়াল ভাবে আনুমোদন পেলে নিয়মানুযায়ী সড়কের কাজ শুরু হবে।
খুলনা সওজের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বিপুল কুমার সাহা বলেন, ‘খুলনা বিভাগের জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক, এবং জেলা সড়ক মিলে ২ হাজার ৬৩৯ কিলোমিটার সড়ক মেইনটেন্যান্সের জন্য ১৫/১৬ অর্থ বছরে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যেখানে ১৪/১৫ অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। যেখানে ঝিনাইদহ জেলার ১শ ২৮ কিলোমিটার মহাসড়কের মধ্যে ৩০ কিলোমিটার সংস্কার করা সম্ভব হবে। আগামী শুকনো মৌসুমে যে সব সড়ক বেশি খারাপ সেগুলো গুরুত্ব অনুযায়ী আগে সংস্কার করা হবে। বাকিগুলো পর্যায় ক্রমে সংস্কার করা হবে।

