পাঞ্জেরী ডেস্ক : ভারত-বাংলাদেশের ১৬২ ছিটমহলের প্রায় সবগুলো বিনিময় শেষ হলেও ত্রিপুরার রাজ্য সরকারের আপত্তিতে মুহুরীর চর এখনো অমিমাংসিতই রয়েছে। নতুন সীমানা নির্ধারণ করে ছিটমহল হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে বিষয়টিকে বেশ ঘোলাটে করছে ত্রিপুরার রাজ্য সরকার।
মূলত বিলোনিয়া শহরের ১২ থেকে ১৩ একর জমি নিয়ে ত্রিপুরার আপত্তি। অবশ্য এ অঞ্চলের মানুষ শান্তিতে থাকতে জমি হস্তান্তর মেনে নিতে রাজী। কারণ ওই জমি নিয়ে পাকিস্তান আমল থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত নিয়মিত দুই তরফে গুলি বিনিময় হয়েছে।
ত্রিপুরা সরকারের মতে, ২০১১ সালের প্রোটোকল চুক্তিতে যতটা জমি বাংলাদেশকে দেয়ার কথা, তার থেকেও বেশী জমি দেয়া হচ্ছে। বিলোনিয়া শহরের অংশ। ত্রিপুরা চাইছে ২০১১-র চুক্তি অনুযায়ী নতুন করে সীমানা নির্ধারণ করা হোক।
গণমাধ্যম বিবিসির কাছে ত্রিপুরার রাজস্ব মন্ত্রী বাদল চৌধুরী বলেছেন, ‘মুহুরি নদীর মাঝ বরাবর আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারণ করার ব্যাপারে ২০১১ সালের প্রোটোকল চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল দুই দেশ। এর ফলে ভারতকে প্রায় ৩৬ একর জমি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। ওই জমি দিয়ে দিতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই কিন্তু চুক্তির বাইরে গিয়ে আরও প্রায় ১২-১৩ একর জমি বাংলাদেশকে দেয়ার কথা বলা হচ্ছে।’
এ জমির ব্যাপারে অবশ্য তাদের দাবি, ২০১১ সালের প্রোটোকল চুক্তি সই হওয়ার পরে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ জরিপের সময়েই এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, দুই দেশের জরিপকর্মীরা ভারতের স্থানীয় রাজস্ব আধিকারিক বা রাজ্য সরকারকে না জানিয়েই এ জমি বাংলাদেশের দিকে চিহ্নিত করে দেন।
বাদল চৌধুরী দাবি, ‘সার্ভে অব ইন্ডিয়াও মেনে নিয়েছিল যে ওই বাড়তি জমি দেয়া জরিপ দলের ভুল। কিন্তু সেটা সংশোধন না করেই দুই দেশ স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের চুক্তি করে ফেলল।’
সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করার জন্য তারা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে একাধিকবার চিঠিও লিখেছে ত্রিপুরার রাজ্য সরকার। ত্রিপুরা আরো দাবি জানিয়েছে যে, বাংলাদেশের কাছে যে জমি চলে যাবে, তার জন্য জমি-মালিকদের ক্ষতিপূরণ আর চুক্তি অনুযায়ী মুহুরি নদীর পাড় বাঁধানোর কাজে ৪০ কোটি টাকা ভারত সরকার ত্রিপুরা রাজ্যকে দিবে। এছাড়াও বিলোনিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহর ঘেঁষে যেহেতু সীমান্ত হবে, তাই ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বাড়তি বিএসএফ মোতায়েন করতে হবে। সুত্র: বিবিসি

