স্পোর্টস ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর স্থগিত করার ঘটনায় বেশ হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভিআইপি নিরাপত্তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও সফর থেকে সরে এসেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। সিএ-র সিদ্ধান্তের বিষয়ে বুধবার মুখ খোলেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার ইয়ান চ্যাপেল। দুদিন পর বোমা ফাটালেন আরেক সাবেক অস্ট্রেলিয়ার তারকা ডিন জোন্স। এই জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার জানান, বাংলাদেশ সফর স্থগিত করে অস্ট্রেলিয়া হারের ‘লজ্জা’ থেকে রক্ষা পেয়েছে।
সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে লেখা এক কলামে এমনটাই জানিয়েছেন হালের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ডিন জোন্স। বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া কেন পরাজয়ের মুখে পড়তো তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। পাঠকদের জন্য ডিন জোন্সের কলামের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-
সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে ডিন জোন্স লিখেন, ‘সন্ত্রাসী হামলার হুমকির মুখে বাংলাদেশ সফর স্থগিত করে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বিব্রতকর অবস্থা এড়াতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দুর্দান্ত খেলা উপহার দিয়ে আসছে। আমার বিশ্বাস, সফরটি স্থগিত না হলে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করতো। উপমহাদেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া ফর্ম খুবই বাজে। আর অনভিজ্ঞ একটি দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে গেলে তাদের পরাজয়ই সঙ্গী হতো।’
বাংলাদেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া কেন হেরে যেত তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন ডিন জোন্স, ‘অস্ট্রেলিয়া দলে টপ-অর্ডারে ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্রিস রজার্স নেই। বাংলাদেশ যে শুষ্ক ও টার্নিং পিচ তৈরি করে থাকে সেসব পিচে স্টিভেন স্মিথ ছাড়া মিডল-অর্ডারের অন্যদের অবস্থা ভয়াবহ বাজে। উপমহাদেশে টেস্ট সেঞ্চুরি করার রেকর্ড রয়েছে একমাত্র ফর্মে ফিরতে লড়াই করা শন মার্শের। বোলার নির্বাচনও উদ্বিগ্ন করার মতো। মিচেল স্টার্কের হাঁটুর সার্জারি করা প্রয়োজন। উপমহাদেশে নাথান লায়নের বোলিং গড় প্রায় ৫০ এর মতো। অ্যান্ড্রু ফ্যাকেটে অপরিচিত মুখ (এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অভিষেক হয়নি)। অন্যদিকে স্টিফেন ও’ক্যাফে ও অ্যাস্টন অ্যাগার ফর্ম ফিরে পেতে সংগ্রাম করছেন (ও’ক্যাফে এক টেস্টের ক্যারিয়ারে দুই উইকেট নিয়েছেন, আর অ্যাগার দুই টেস্টে নিয়েছেন দুই উইকেট)।
এরপর তিনি উপমহাদেশের মাটিতে দল ঘোষণার সমালোচনা করে লিখেন, ‘অস্ট্রেলিয়া উপমহাদেশের মাটিতে টেস্ট জেতার জন্য সবসময়ই পুরনো মানদণ্ডের ওপরই নির্ভর করে- দুজন ফাস্ট বোলার, একজন অলরাউন্ডার ও দুজন স্পিনার। এটি বিভিন্ন কারণে ফলদায়ক হয় না এবং কৌশল নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করার এটাই সঠিক সময়।’
আগামী নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। সেই সিরিজ নিয়ে ডিন জোন্স লিখেন, ‘যদি আপনি মনে করেন অসিরা কিউইদের দুমড়ে-মুচড়ে দিবে, তবে ব্যাপারটি নিয়ে আরেকবার ভাবুন। কিউই বোলার ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি, ডগ ব্রেসওয়েল, কোরি অ্যান্ডারসন ও ম্যাট হ্যানরি- সবাই-ই বল সুইং করতে পারঙ্গম। যদি এই কিউই বোলাররা সুইং করার মতো কন্ডিশন পায় এবং স্মিথ ও ওয়ার্নারকে প্রথম ইনিংসে দ্রুত ফেরাতে পারে, তবে তাদের (নিউজিল্যান্ডের) সিরিজ জয়ের বড় সম্ভাবনা থাকবে। তবে কন্ডিশন যদি গরম ও শুষ্ক হয় তবে অস্ট্রেলিয়াই ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামবে।’

