ঢাকাFriday , 9 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্গোৎসব: ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা কারিগরদের

Link Copied!

potimaনিজস্ব প্রতিবেদক : শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। আত্মমগ্ন কারিগররা এখন মূলত ব্যস্ত দ্রুত হাতে প্রতিমার রূপটানে। নিখুঁত অভিব্যক্তিতে ফুটে উঠছে দেবীপ্রতিমার কমনীয় মুখ কিংবা মহিষাসুরের পেশিবহুল দেহ। অনেক পূজা মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির ৭০ ভাগ কাজই সম্পন্ন করে ফেলেছেন শিল্পীরা। আর ৩০ ভাগ কাজ  কাজ শেষ করতে এখন শিল্পীদের পাল্লা ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই ভিন্ন আমেজ বইতে শুরু করেছে। সারাদেশের পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে পুরোদমে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। আসন্ন এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দুমাস আগে থেকেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন প্রতিমা কারিগররা।
ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, রমনা কালী মন্দির, জয়কালী মন্দির ঘুরে দেখা গেছে কোনো কোনো মণ্ডপে প্রতিমায় মাটি লাগানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আবার কোনো কোনোটিতে চলছে রঙের কাজ। পূজা মণ্ডপগুলোর সাজসজ্জার কাজও চলছে পুরোদমে।
আয়োজকদের ফরমায়েশ মতো বিভিন্ন মণ্ডপে দেবীকে উপস্থাপন করা হবে বিভিন্ন ঢংয়ে।
প্রতিবারই প্রতিমা তৈরিতে দেখা যায় নতুনত্ব। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রতিমা তৈরিতেও রয়েছে বৈচিত্রের ছোঁয়া। আয়োজকদের ফরমায়েশ মতো বিভিন্ন মণ্ডপে দেবীকে উপস্থাপন করা হবে বিভিন্ন ঢংয়ে। কোনো মণ্ডপে দেখা যাবে- এক কোচা শাড়ি পরিহিত বাঙালীর চিরচেনা মায়ের রূপে, কোথাও সাঁওতালী, কোথাও নৃত্যরত, কোথাও আবার যুদ্ধরত।
শাঁখারীবাজার এলাকার রাস্তার উপর অস্থায়ী পূজামণ্ডপে কথা হয় প্রতিমা শিল্পী অধির পালের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিমা গড়া শেষ হলে রঙতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে অবয়ব। ফুটিয়ে তোলা হবে নাক-চোখ-মুখ ইত্যাদি। এরপর শুরু হবে পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধানের কাজ।
দুর্গাপূজার এখনও নয়দিন বাকি থাকলেও নগরীর শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার এলাকায় দুর্গাপূজার আয়োজনকে ঘিরে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। শাঁখারীবাজার এলাকার আশপাশের পানীটোলা রাধিকামোহন বসাক লেন এলাকায় প্রতিবছরই বিপুল সমারোহে পালিত হয় দুর্গোৎসব।
শাঁখারীবাজারে এ বছর প্রায় ২০টি স্থানে পূজামণ্ডপ তৈরি হয়েছে বলে শাঁখারীবাজার মন্দির কমিটির নেতা প্রদীব নাগ জানান। রাস্তার ওপরেই চলছে আয়োজন। মহালয়ার পর থেকে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। পুরনো ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, পানীটোলা, কোতয়ালী রোড, গোয়ালনগর, রমাকান্ত নন্দী লেন ও রাধিকামোহন বসাক লেনের পূজামণ্ডপগুলোতে এখন চলছে প্রতিমা ও মণ্ডপ তৈরির নানা পালা। এ জন্য আয়োজক কর্তৃপক্ষের লোকজন রাতদিন কাজ করছেন।
তিনি আরো জানান, শাঁখারীবাজার এলাকার দুর্গোৎসব সবার। সম্মিলিত অংশগ্রহণে এ এলাকায় প্রতিবছর উৎসব জমে ওঠে। পুরনো ঢাকা এ সময় ভিন্ন রূপ নেয়।
মালিটোলার সার্বজননী পূজা কমিটির উদ্যোক্তা গনেশ মণ্ডল জানান, এক সময় এ দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে দীর্ঘ সময়ব্যাপী দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হলেও এখন সে অবস্থা নেই। দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। আর্থিক সঙ্কট এর অন্যতম কারণ বলে আয়োজকদের ধারণা।
দীর্ঘ ঐতিহ্য লালিত ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এবারও ব্যাপক অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে উদযাপন হবে দুর্গোৎসব। এরই মধ্যে সেখানে ভক্ত-অনুরাগীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। চলছে জেলা-থানা কমিটির নানা বৈঠক।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতা নির্মল চ্যাটার্জী জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে এবারের আয়োজনের মধ্যে রয়েছে ১৮ অক্টোবর দেবীর ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ, ১৯ অক্টোবর সপ্তমীতে সকালে মহাসপ্তমী পূজা, সন্ধিপূজা, ২০ অক্টোবর সকালে দেবীর মহাষ্টমী পূজা আরম্ভ ও রামকৃষ্ণ মিশনগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা, রাত ১১টা থেকে ১১টা ৫২ মিনিটে সন্ধি পূজা, ২১ অক্টোবর পূর্বাহ্নে দেবীর মহানবমী  পূজা সমাপন ও  ২২ অক্টোবর সকাল ৯টা ৫৩মিনিটে দশমী পূজা আরম্ভ এবং সকাল ১০ টা ৫১ মিনিটে পূজা সমাপন ও রাতে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে বলে তিনি জানান।