স্পোর্টস ডেস্ক : ভারতের এই দলটি টি২০ ক্রিকেটের জন্য আদর্শ। অথচ তারাই কি না তিন ম্যাচের সিরিজ হেরে বসে আছে এক ম্যাচ আগেই। নিজেদের মাটিতে এরকম সিরিজ হার লজ্জারই বৈকি!
সেই লজ্জা খানিকটা কমাতে বৃহস্পতিবার মহেন্দ্র সিং ধোনির দলকে ইডেন গার্ডেনে জিততেই হবে। তা না হলে গেল গেল রব উঠে যাবে! তার চেয়েও বড় কথা কানপুরে ১১অক্টোবর পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্যও ধোনিদের জয় ছাড়া অন্যকিছু ভাবার অবকাশ নেই।
টিম ইন্ডিয়া’র যা অবস্থা তাতে চাপ ঘিরে ধরেছে দলটিকে। ধর্মশালায় ১৯৯ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েও কাজ হয়নি। জেপি ডুমিনির বীরত্বে ৭ উইকেটের বড় জয়ে ভারত অভিযান শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
কটকে ধোনির দলকে ৯২ রানের লজ্জা উপহার দিয়ে তারা ম্যাচ জিতে নিল ৬ উইকেটে। যেটা ভারতের টি২০ ক্রিকেটে ঘরের মাঠে সর্বনিম্ন আর সবমিলে দ্বিতীয় সর্বনিন্ম ইনিংস। তারওপর দর্শকদের বৃৃষ্টির মতো মাঠের মধ্যে পানির বোতল ছুড়ে মেরে আরেক লজ্জা দিয়েছে ভারতকে।
ইডেনে মাঠের ক্রিকেটে যেমন ধোনিকে জিততে হবে, একইভাবে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) কর্মকর্তাদেরও জিততে হবে মাঠের বাইরে। এই ম্যাচটি ধোনির জন্য যেমন পরীক্ষার, তেমনি সৌরভ গাঙ্গুলির জন্যও। সিএবি’র প্রেসিডেন্ট হিসেবে সুনাম কুড়াতে তাকেও দেখাতে হবে কটক আর কলকাতা এক নয়।
মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে ভারতীয় দলে একাধিক পরিবর্তন আসতে পারে। হরভজন সিং কিংবা অক্ষর প্যাটেলের জায়গা নিতে পারেন অমিত মিশ্র। ব্যাটিং আরও সমৃদ্ধ করতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে আজিঙ্কা রাহানেকে।
সিরিজ জেতা হয়ে গেছে তাই দক্ষিণ আফ্রিকা বাজিয়ে দেখতে পারে লেগ স্পিনার এডি লিয়েকে। এই ম্যাচে ফিরতে পারেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক। লম্বা সফরের কথা ভেবে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে ওপেনার হাশিম আমলাকে।
সর্বশেষ তিনটি টি২০ সিরিজের দুটিতে জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুটিই এই উপমহাদেশে। একটি সিরিজ প্রোটিয়ারা জিতেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। বাকিটি ড্র করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে। পক্ষান্তরে ২০১৩ সালের পর থেকে দ্বিপক্ষীয় কোন টি২০ সিরিজ জিততে পারেনি ভারত।
দক্ষিণ আফ্রিকা (সম্ভাব্য): এবি ডি ভিলিয়ার্স, হাশিম আমলা, ফ্যাফ ডু প্লেসিস (অধিনায়ক), জেপি ডুমিনি, কায়া জনডো, ফারহান বেহারডিয়েন, ক্রিস মরিস, অ্যালবি মরকেল, মার্চেন্ট ডি লেঙ্গে/কাগিসো রাবাদা, কাইল অ্যাবট, ইমরান তাহির/এডি লিয়ে।
ভারত (সম্ভাব্য): রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), আম্বাতি রাইডু, রবিচন্দ্র অশ্বিন, অক্ষর প্যাটেল/অমিত মিশ্র/হরভজন সিং, ভুবনেশ্বর কুমার, মোহিত শর্মা/ এস অরবিন্দ।

