নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে একনেক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কঠিন হলেও আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করলে সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব । সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবাইকে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করায় বিশ্ববাসীর কাছে দেশ আজ প্রশংসনীয়।
প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তরিকতার সঙ্গে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভা সূত্রে জানা গেছে, ‘জাতীয় ডাটা (তথ্য) সেন্টার স্থাপন’ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করলে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়টি উঠে আসে। তখন এবার সরকার ঘোষিত সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এবার আমরা সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে দেখাবো। তিনি আরো বলেন, আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। সবাই সবার দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করলে আমাদের পক্ষে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জস করা সম্ভব।’
সভায় অংশ নেওয়া এক সদস্য পরে জানান, এ ব্যাপারে সভায় একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি আশাবাদী বাঙালি পারবে, আমরা বিজয়ী জাতি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আগে বলতো বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি হবে চার থেকে পাঁচ শতাংশ। তারা এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলছে ছয় থেকে সাড়ে ছয় শতাংশ হবে। তবে আমি আশাবাদী, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার হবে সাত শতাংশ। এটা আমরা করে দেখাবো।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, এই কঠিনকে অর্জন করতে পারবে বাঙালি। কারণ, আমরা বিজয়ী জাতি। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুকে বিজয়ের সাড়ে তিন বছরের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। পঁচাত্তরে তাকে হত্যা না করা হলে বাংলাদেশ অনেক আগেই আরও অনেক উন্নতি করতো।
বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার লক্ষ্য, বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে ছোট করে দেখা, এটা আমাকে সব সময় কষ্ট দিতো। বাংলাদেশকে নিয়ে নেতিবাচক বললে আমি সহ্য করতে পারি না। ৫৫ হাজার বর্গমাইলে ১৬ কোটি মানুষ বাস করে। তাদের মুখে খাবার দিচ্ছি, এটা সহজ কথা নয়। গরিব মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার লক্ষ্যকে নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমরা লাকি। কারণ, প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, কিন্তু মূল্যস্ফীতি বাড়েনি। মতিয়া আপাকে (কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী) নিয়ে ১৯৮১ সালে দেশ ঘুরে বেড়াতাম, গ্রামেও ঘুরে বেড়াতাম। তখন মানুষকে পর্যবেক্ষণ করতাম। দেখতাম, গায়ে পোশাক আছে কি-না। তখন মানুষের গায়ে একটু কাপড় থাকতো, পায়ে স্যান্ডেলও থাকতো না। এখন গ্রামে অনেক উন্নয়ন কাযর্ক্রম পৌঁছে গেছে। এখন গ্রামেও আয় বৈষম্য নেই। প্রতিটি গ্রামই একেকটি ছোট ছোট শহর হবে। গ্রামে যাবে বিদ্যুৎ সেবা। ডিজিটালাইজড হবে গ্রামগুলো।

