ঢাকাTuesday , 6 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৭ দিনেও তাভেল্লা হত্যার ক্লু মেলেনি

Link Copied!

Sizar Tabella 3নিজস্ব প্রতিবেদক : ইতালির নাগরিক সিজার তাভেল্লা খুনের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোন ক্লু পায়নি পুলিশ। তাই এই মামলার দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নেই।
তবে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন খুনিদের একটি তালিকা নিয়ে পুলিশের ১২টি টিম মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। এদিকে তাভেল্লার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে তদন্তকারী দল।
তাভেল্লার মৃত্যুর পর ডিএমপি’র উপ কমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, কয়েকটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। সেগুলো হচ্ছে তাভেল্লার ব্যক্তিগত শত্রুতা, তিনি নিজে কোন বিতর্কিত লেখালেখির সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিনা, তার কর্মক্ষেত্র সম্পর্কিত কোনো ঝামেলা আছে কিনা, তিনি যে এনজিওতে কাজ করতেন সেই এনজিও’র কোন বিতর্কিত কার্যক্রম আছে কিনা, সহকর্মী কারো সঙ্গে তার বিরোধ ছিল কিনা এবং আর্ন্তজাতিক কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা আছে কিনা।
তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে এসব বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করা হলেও সার্বিকভাবে সব ধরনের আশঙ্কা নিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে। তাভেল্লার খুনের পর ডিবি’র যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলামও সাংবাদিকদের এসব বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছিলেন।
তবে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, যে কয়েকটি বিষয়কে সামনে রেখে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে সেসব বিষয়ে এখনো কোন ক্লু পায়নি পুলিশ। তবে ক্লু উদ্ধারে পুলিশ বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত প্রধান ডিসি মাহবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনিদের শনাক্ত করতে দায়িত্ব ভাগ করে কাজ করছে ডিবির ১২টি টিম। প্রতিটি টিম আলাদা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে। ওই টিমগুলো থেকে পাওয়া তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সহসাই তারা এই হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ধার করতে সক্ষম হবেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের সময় প্রত্যক্ষদর্শী একজনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যার মিশনে অংশ নেয়া তিন যুবককে খোঁজা হচ্ছে। তবে এখনো তাদের হদিস পাওয়া যায়নি। ওই তিন যুবক কারা, কি পরিচয় সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে বিভিন্ন আলামাত সংগ্রহের পাশপাশি এ পর্যন্ত গুলশান এলাকার ১০৯টি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে গোয়েন্দা পুলিশ। হত্যাকারীরা পালানোর ক্ষেত্রে কি কি পথ ব্যবহার করেছে তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পথ সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট হলে খুনিদের ব্যবহৃত মোটর সাইকেলও সনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে ওই সুত্রে জানা গেছে।
দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, ডিবি, সিআইডি ও একটি গোয়েন্দা সংস্থা সহায়তা করছে। রোববার রাত থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে অন্তত ১৫টি অভিযান পরিচালনা চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে কেউ আটক হয়েছে কিনা-এমন কোন তথ্য ঘটনা তদন্তে গঠিত তদন্ত কমিটির কোন সদস্য মন্তব্য করতে চাননি।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা বলেছেন, সম্ভাব্য খুনিদের আটক করতে বা খুনিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন ব্যক্তিদের আটক করতেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযান ও ঘটনার তদন্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন।
গুলশানে নিহত ইতায় নাগরিক তাভেল্লার ময়না তদন্ত রিপোর্ট রোববার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে পৌঁছায়। শরীরের তিনস্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গুলশান-২ নম্বরের ৯০ নম্বর সড়কের পাশে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন তাভেল্লা (৫০)।