ভোলা প্রতিনিধি : চরফ্যাশনে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে মা-ইলিশ শিকারের মহোৎসব চলছে। হাট-বাজার এবং ঘাটগুলোতে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকাশ্যে বেচাকেনা চলছে মা-ইলিশের।
এছাড়াও ভোলার দক্ষিণ উপকূলে সাগরের বালুর চরে কয়েকশ টন মা-ইলিশ বোঝাই করে ঘাটে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে শতাধিক ফিশিংট্রলার।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ বলছে, লজেস্টিক সাপোর্টের সীমাবদ্ধতার সুযোগে অসাধু জেলেরা চোরাগুপ্তা কৌশলে মা-ইলিশ শিকার করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পূর্বাঞ্চলের মেঘনা বেতুয়াঘাট এবং পশ্চিমাঞ্চলের তেতুলিয়ার ঘোষেরহাট ঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বেড়িভাঙ্গা, খাজুরগাছিয়া, সামরাজ, কচ্চপিয়া, বকসী, শুকনাখালী, ড্রামখালী, মনুরা, ডাকাতিয়া, পাতিলা, কুকরী, ঢালচরসহ দক্ষিণের সাগর মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত জলসীমায় মা-ইলিশ শিকারের মহোৎসব চলছে। নিষিদ্ধ সময়ে মা-ইলিশ বেচা-কেনার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ঘাটেঘাটে গড়ে উঠেছে বিশেষ সিন্ডিকেট।
এসব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিহালি ১২শ থেকে ১৪শ টাকা দামে মা-ইলিশ উঠে যাচ্ছে ক্রেতাদের হাতে। মা-ইলিশ শিকার আর বেচা-কেনায় এখন আর গোপনীয়তা বলে কিছু নেই। সবই হচ্ছে প্রকাশ্যে।
ঘাটগুলো থেকে বিশাল অংকের ‘চাঁদা’ নিয়ে একটি বিশেষ মহল প্রশাসককে ‘ম্যানেজ’ করে মা-ইলিশ শিকারের মহোৎসবে মেতেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা জানান, চরফ্যাশনের বিশাল জলসীমায় মা-ইলিশের সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
ঘাট সূত্রে জানা গেছে, ঘাটগুলোতে দুই জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ২টি মোবাইল টিম কর্তব্যরত আছে। এছাড়াও ঘাটগুলোকে পর্যবেক্ষনে রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসনের ৮ কর্মকর্তাকে নিয়োজিত করা হয়েছে। তবে এ কাজের জন্য ঘাটে যাননি তারা।
ফলে অসাধু জেলেরা সুযোগ নিচ্ছে। সাগর মোহনায় শতাধিক ফিশিংট্রলার ইলিশ ভর্তি করে ঢালচরের দক্ষিণের বালুর চর সংলগ্ন সাগরকূলে অলস সময় কাটাচ্ছে। নিষিদ্ধ সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথে কয়েকশ টন মা-ইলিশ নিয়ে ট্রলারগুলো ঘাটে পৌঁছাবে বলে জেলেরা জানিয়েছেন।
চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মা-ইলিশ শিকারে নিষিদ্ধ সময়ের একাদশতম দিন পর্যন্ত চরফ্যাশনে ৪৪ জেলের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, ৫৭ জেলের ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকার অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। আটক করা হয়েছে ১৪টি ট্রলার। পুড়ে দেয়া হয়েছে ৩০ হাজার মিটার জাল। অর্থদণ্ডেদণ্ডিত বেশির ভাগই শিশু জেলে।
তিনি বলেন, ‘চরফ্যাশনের বিভিন্ন ঘাট থেকে ২০/২৫টি ট্রলার অবরোধের আগেই সাগরে অবস্থান নিয়েছে। এসব ট্রলারগুলো ইলিশ বোঝাই করে সাগরের বালুর চর এলাকায় অবস্থান নিয়েছে বলে খবর পেয়েছেন তারা। জেলেদের ট্রলারগুলো বিশাল আকৃতির। অভিযানে প্রশাসনের ব্যবহৃত ট্রলার ক্ষুদ্রাকৃতির হওয়ায় এসব জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেঘনা-তেতুলিয়াসহ সাগর মোহনা পর্যন্ত চরফ্যাশনে প্রায় ৭শ’ বর্গকিমি জলসীমা রয়েছে। বিশাল এই সীমানায় মাত্র ২টি টিম ব্যবহার করে জেলেদের মাছধরা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি অভিযানের জন্য উপযুক্ত যানবাহনেও সীমাবদ্ধতা আছে। ফলে সামর্থের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও প্রত্যাশা অনুযায়ী সবকিছু করা সম্ভব হচ্ছে না।

