স্পোর্টস ডেস্ক : ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন সে জ্বল্পনার অবসান হয়ে গিয়েছে প্রায় সপ্তাহ খানেক আগেই। ভারতের কেন্দ্রী মন্ত্রী অরুন জেটলির বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকেই নির্ধারিত হয়ে যায় জগমোহন ডালমিয়ার চেয়ারে দ্বিতীয় মেয়াদে বসতে যাচ্ছেন শশাঙ্ক মনোহর। সেই বৈঠকেরই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে আজ। বিসিসিআইর চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।
অনানুষ্ঠানিকভাবে আগেই নির্ধারিত হয়ে ছিল। এবার বিসিসিআইয়ের বিশেষ সাধারণ সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে গেলেন শশাঙ্ক মনোহর এবং নির্বাচিত হওয়ার পরই নতুন বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় বারেরমত দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন তিনি।
২০ সেপ্টেম্বর মারা যান জগমোহন ডালমিয়া। তার মৃত্যুর পর, নিয়মানুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে বোর্ডকে নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নিতে হবে। সে জন্যই আজ মুম্বাইয়ে ডাকা হয়েছে বোডের্র এসজিএম। সেখানেই শশাঙ্গের নামে শিলমোহর পড়লো সকল বোর্ড সদস্যদের পক্ষ থেকে।
প্রেসিডেন্ট পদের জন্য একমাত্র প্রার্থী ছিলেন শশাঙ্কই। বোর্ড সচিব অনুরাগ ঠাকুর আগেই জানিয়েছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পদের জন্য একমাত্র প্রার্থী শশাঙ্ক মনোহর। রোববার বোর্ডের বিশেষ সাধারণ সভায় এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এসজিএমে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী শশাঙ্কের নাম পূর্বাঞ্চলের কোনও সংস্থাকেই প্রস্তাব করতে হবে। প্রথম থেকে শোনা যাচ্ছিল, ত্রিপুরা কিংবা এনসিসি-র তরফে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রস্তাব করা হতে পারে শশাঙ্কের নাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শশাঙ্কের নাম প্রস্তাব করেছেন সিএবি’র নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি।
শুরুতে রাজীব শুক্লা ও ঝাড়খণ্ড ক্রিকেট সংস্থার প্রেসিডেন্ট অমিতাভ চৌধুরির নাম শোনা যাচ্ছিল নতুন বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে। কিন্তু সব হিসেব উল্টে দিয়ে মঞ্চে উঠে পড়েছেন শারদ পাওয়ারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শশাঙ্ক মনোহর। আগে বলেছিলেন, আর বোর্ডে কখনও ফিরব না। শেষ পর্যন্ত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনিই ভারতীয় ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন।
২০০৮/০৯ সালে শারদ পাওয়ারের কাছ থেকে বোর্ড প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন শশাঙ্ক। তারপর বিসিসিআইয়ের দায়িত্বে আসেন এন শ্রীনিবাসন। এই ব্যাক্তিটিই ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত। দুর্নীতিবাজ। আইপিএল কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত হয়ে তিনি বিসিসিআই থেকে আদালতের নির্দেশে অপসারিত হন শ্রীনিবাসন। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করেন শশাঙ্ক মনোহর। জগমোহন ডালমিয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
ডালমিয়ার মৃত্যুর পর শঙ্কা দেখা দিয়েছিল, আবার না বিসিসিআইতে ফিরে আসেন শ্রীনিবাসন। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীও ছিলেন তিনি। তবে শারদ পাওয়ারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে, পূর্বাঞ্চলের সমর্থণ পাওয়া এবং ক্লিন ইমেজের কারণে শশাঙ্ক মনোহরই শেষ পর্যন্ত চলে আসেন লাইম লাইটে।

