ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : শিক্ষার্থী আছে, নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক। রয়েছে শ্রেণিকক্ষ ও বেঞ্চ সঙ্কট। শিক্ষকদের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র পদ্ধতি প্রনয়ণ বিষয়ে নেই প্রশিক্ষণ। একমাত্র পাঠদান ভবনটিও জরাজীর্ণ।
ভবনের চালে রয়েছে অসংখ্য ফুটো। বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি জমে একাকার হয়ে যায়। আর এ অবস্থাতেই চলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার গুঁজিখা দেওয়ানবাগী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের গুঁজিখা গ্রামে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় গুঁজিখা দেওয়ানবাগী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ১৯ বছর পার হয়ে গেলেও বিদ্যালয়টি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ নিয়োগপ্রাপ্ত সাতজন শিক্ষক থাকলেও ২০০৬ সালের পর থেকে চারজন সহকারি শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। ২০১৩ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক সালাহ উদ্দিন মিন্টুও বিদ্যালয়ে আসছেন না।
এতে করে বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণি মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪৫জন। এ অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, একজন সহকারী শিক্ষক ও দুইজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। অভিযোগ আছে, শিক্ষকরা কেউই নিয়মিত বেতন পান না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের একমাত্র টিনশেড ভবনটি খুবই জরাজীর্ণ। সংস্কারের অভাবে দরজা, জানালা ও চালের বিভিন্ন অংশে জং ধরেছে। আবার কোনো কোনো স্থান খসে পড়ছে। ভবনটির মাঝে ধাড়ির তৈরি বেড়া দিয়ে তৈরি করা হয়েছে চারটি কক্ষ। এর মধ্যে একটি অফিস কক্ষ ও বাকি তিনটি পাঠদান কক্ষ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পানি সরবরাহের জন্য বিদ্যালয়টিতে কোনো নলকূপ নেই। এমনকি নেই কোনো শৌচাগার।
বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার, বর্ণা আক্তারসহ একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘নলকূপ ও শৌচাগার না থাকায় পানি পান কিংবা শৌচাগার ব্যবহারের জন্য প্রায়ই আমাদের আশেপাশের বাড়িগুলোতে যেতে হয়। এতে করে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত। এজন্য স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করে না। বিশেষ করে যে সকল শিক্ষার্থীদের শহরের ভালো বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সামর্থ নেই তারাই এখনে পড়াশোনা করতে আসে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নানা সমস্যা ও সঙ্কটের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘নানা ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখিন হয়েও আমরা বিদ্যালয়টিতে শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এ বছর বিদ্যালয়ের ৩৫জন শিক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। আশা রাখছি ভালো ফলাফল অর্জন করবে।’
গুঁজিখা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খালেদা পারভীন বলেন, ‘বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত। বিষয়গুলো আমরা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’
গৌরীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়টির বিভিন্ন সমস্যা ও সঙ্কট সম্পর্কে আমরা অবগত। এগুলো সমাধানের জন্য পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পানির সমস্যা দূর করার জন্য বিদ্যালয়টিতে নলকূপ স্থাপনের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

