দিনাজপুর প্রতিনিধি : এই মুহূর্তে সিডিউল বিপর্যয় না হলেও দেশের বৃহত্তম চার লাইনের রেলওয়ে জংশন থেকে পার্বতীপুর-ঢাকা রুটে পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলের আন্তঃনগর ট্রেনে আসন সঙ্কটের কারণে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
প্রতিনিয়ত আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন না থাকায় যথা সময়ে ঢাকাগামী যাত্রীদের ভ্রমণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। শত শত যাত্রী টিকেট না পাওয়ায় পার্বতীপুর রেল স্টেশন থেকে ফিরে গিয়ে বিকল্প পথে গন্তব্যস্থলে যাচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে আসনবিহীন টিকেট কেটে ট্রেনগুলোতে গাদাগাদি করে ভ্রমণ করছেন।
অন্যদিকে, কাউন্টারে আসন সংরক্ষিত টিকেট পাওয়া না গেলেও দ্বিগুণ দামে কালোবাজারীদের কাছে টিকেট মিলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসন সঙ্কট আর কালোবাজীর কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে।
রেলওয়ে সূত্রমতে, উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুরের যাত্রীরা আন্তঃনগর ট্রেনে ঢাকা যাতায়াত করে থাকেন। পার্বতীপুর হয়ে ঢাকা চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনগুলো হচ্ছে নীলসাগর, একতা ও দ্রুতযান। এসব ট্রেনে পার্বতীপুর রেল স্টেশনে আসন বরাদ্দ রয়েছে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
এদিকে, দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি, বড়পুকুরিয়া ২৫০ মেগাওয়াট ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, রেলওয়ে হেড ওয়েল ডিপো, রেলওয়ে লোকোমোটিভ কারখানা ও বীর উত্তম শহীদ মাহবুব সেনা নিবাস অবস্থিত। এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চারক প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন না থাকায় ভিআইপি যাত্রীদেরও প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
পার্বতীপুর থেকে নিয়মিত ঢাকাগামী যাত্রী সমাজসেবী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সময়মত ট্রেনে বার্থের টিকিট না পাওয়ায় ট্রেনের পরিবর্তে তাকে বাসযোগে ঢাকা যেতে হয়।’
পার্বতীপুর রেল স্টেশন সূত্রে জানা যায়, আন্তঃনগর একতার চেয়ার শোভন ২০টি, শোভন ৩০টি ও বার্থ ২টি, আন্তঃনগর দ্রুতযানের চেয়ার শোভন ৩০টি, শোভন ২০টি ও প্রথম শ্রেণীর ৬টি এবং ঢাকা-নীলফামারী রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর নীলসাগর ট্রেনে চেয়ার শোভন ৭২টি ও বার্থ রয়েছে ৬টি। তবে এক বছর আগে নীলসাগর ট্রেনে চেয়ার শোভন আসন ছিল ৯২টি। এর মধ্যে ২০টি আসন অজ্ঞাত কারণে কেটে ফেলা হয়েছে বলে সূত্রটি জানায়।
আসন সঙ্কটের কথা স্বীকার করে পার্বতীপুর স্টেশন মাস্টার জিয়াউল আহসান বলেন, ‘স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নিরুপায় হয়ে আসন বিহীন টিকেটও দেয়া হচ্ছে কাউন্টার থেকে।’ তবে কালোবাজারী হয় না বলে দাবি করেন তিনি।

