স্পোর্টস ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের এখন থাকার কথা ছিল ঢাকায়। এমনকি শনিবার থেকে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য মিরপুরে অনুশীলনেও ব্যস্ত থাকার কথা ছিল অজি ক্রিকেটারদের; কিন্তু নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পূর্বনির্ধারিত সফর, ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেনি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সফর স্থগিত করার ঘোষণাও দিয়ে ফেলেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এতে দুই মাস অপেক্ষায় থাকার পরও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষের সিরিজ দেখার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। বাংলাদেশ সফর হওয়ার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে স্টিভেন স্মিথের প্রথম সিরিজ। তাই এই সিরিজ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় হাতাশ হয়েছেন অসি অধিনায়কও।
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের সদস্যদের গত সোমবার বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। আর আগে শনিবারই নিরাপত্তা ঝুঁকির ধুয়ো তুলে সফর পিছিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। এরপর ছয়দিনের অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর ডিএফএটি এবং এএসআইওর সঙ্গে বৈঠকের পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া সিদ্ধান্ত নেয়, এ সময়ে বাংলাদেশ সফর তাদের জন্য নিরাপদ নয়। ফলে, বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের বেশ বড় একটা ধাক্কাই খেতে হয়। কারণ জমজমাট একটি লড়াই দেখার প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছিল দর্শকরা।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশ সফরই ছিল স্টিভেন স্মিথের প্রথম কোন পরীক্ষা। অসি অধিনায়ক নিজেও তাই উদগ্রীব ছিলেন বাংলাদেশ সফরের জন্য। টেস্ট সিরিজ স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেট দর্শকদের অনুভূতিটাও বুঝতে পারছেন স্মিথ। তবে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও কোনো সংশয় নেই তার। এতে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে স্মিথের শুরুটাও পিছিয়ে গেছে। এ জন্য কিছুটা হতাশ হলেও বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে অসি সাংবাদিকদের স্মিথ বলেন, ‘এই সফরটা খুব ভালো একটি সুযোগ ছিল আমাদের জন্য। নতুন সব খেলোয়াড় নিয়ে প্রায় নতুন এক দল সফর করার কথা ছিল বাংলাদেশের। আমরা সবাই খেলার জন্য মুখিয়ে ছিলাম; কিন্তু বর্তমানে আমাদের জন্য বাংলাদেশ সফর নিরাপদ নয়। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। বাংলাদেশ সফর স্থগিত হওয়ায় আমিও খুব হতাশ।’
সফরটি বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশের সমর্থকদের হতাশাও বুঝতে পারছেন স্মিথ। তাই খুব দ্রতই এই সিরিজটি মাঠে গড়ানোর আশা করছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে স্মিথ বলেন বাংলাদেশের সকল ক্রিকেট ভক্তদের জন্য ব্যাপারটি (সিরিজ পেছানো) হতাশাজনক। আমি নিজেও তাদের জন্য সমব্যাথী। তারা সবাই বাংলাদেশে আমাদের খেলতে দেখতে চেয়েছিল। আশা করছি খুব শিগগিরই আমরা সেখানে গিয়ে খেলতে পারব।’

