নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে কর্মস্থলের উদ্দেশে ঢাকায় ঢুকছে হাজার হাজার মানুষ। ট্রেন আসছে আর নামছে মানুষের ঢল।
ঈদের ছুটির সঙ্গে ঐচ্ছিক ছুটি শেষ করে অনেকেই আজ বৃহস্পতিবার ঢাকামুখী। এই ঢাকামুখী মানুষের ঢল আগামী রোববার পর্যন্ত থাকবে। কমলাপুর রেলস্টেশনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নাড়ির টান ছেড়ে জীবিকার টানে কর্মস্থলের উদ্দেশে ছুটছে এসব মানুষ।
বৃহস্পতিবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা যায়, ট্রেন এসে থামছে আর হুড় হুড় করে বের হচ্ছে মানুষ। দাঁড়িয়ে, ছাদে, সিটে বসে যে যেভাবে পারছে, সেভাবে ট্রেনে করে ঢাকা ফিরছে।
যাত্রীর এই চাপ গত কয়েক দিনের চেয়ে আজকে অনেক বেশি। তবে শনিবার চাপ আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘ট্রেন যথাসময়ে ঢাকা এসে পৌঁছাচ্ছে। দু-একটি ট্রেন ব্যতীত আজো কোনো শিডিউল বিপর্যয় দেখা যায়নি। যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে ঢাকায় আসতে পারে, শুরু থেকে আমরা সেই চেষ্টাই করে এসেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে আমরা ট্রেন এবং বগি উভয়ই বাড়িয়েছি। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মোট সাতটি ট্রেন ঢাকায় এসেছে।’
সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ঈদ স্পেশাল ট্রেনগুলোও ঢাকায় আসছে। এটা চলবে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত। গত রোববার অফিস-আদালত খোলা থাকলেও আগামী রোববার থেকে ব্যাংক, অফিস, আদালতের কার্যক্রম পুরোদমে চালু হয়ে যাবে বিধায় আগামী শনিবারে যাত্রীর চাপ অনেক বেশি থাকবে। তবে আমরা যাত্রীদের বারবার নিষেধ করে আসছি, ছাদে করে না আসতে। তবু তারা ঝুঁকি নিয়ে আসছে। এতে করে কিন্তু বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সবার আগে আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে।’
এদিকে আজও ফিরতি পথে যাত্রীদের অভিযোগের অন্ত নেই। নানা ভোগান্তি পেরিয়ে যেমন গ্রামে প্রিয়জনের সান্নিধ্যে গিয়েছে এসব মানুষ, ফিরতি পথেও অনেকে নানা ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে।
কিশোরগঞ্জ থেকে আসা টিটু রাইজিংবিডিকে বলেন, ট্রেন সময়মতো ছেড়েছে ঠিকই, কিন্তু অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে আসতে হয়েছে। এতে করে যারা বসে এসেছেন, তাদেরও অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে।
পরিবার নিয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে আসা লিয়াকত আলী জানান, বাড়ি ফেরার সময় অনেক কষ্ট করে টিকিট পেলেও কর্মস্থলে ফিরতে কোনো সমস্যা হয়নি। স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পেরেছেন বলে জানান।

