আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়ায় বিমান হামলা নিয়ে সংঘর্ষ এড়াতে যথা শীঘ্র সম্ভব আলোচনায় বসতে যাচ্ছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা বিবিসি।
গত বুধবার সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে প্রথমবারের মত রাশিয়া বিমান হামলা চালানোর পর ওই বৈঠকের কথা জানানো হয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের অবস্থান লক্ষ্য করে গতবছর থেকেই বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
সিরিয়া নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীতমুখী। সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশারের বড় সমর্থক রাশিয়া। অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্র বাশারকে ক্ষমতায় রাখতে ইচ্ছুক নয়। সম্প্রতি বাশারের বিষয়ে ইউরোপীয়রা সমঝোতার প্রয়োজনে তাদের নীতি নমনীয় করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চ পরিষদ ফেডারেশন কাউন্সিল বুধবার সিরিয়ায় রুশ সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি অনুমোদন করে। এর পরপরই আইএস জঙ্গিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালায় রাশিয়া। ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তান অভিযান সমাপ্ত হওয়ার পর থেকে দূরবর্তী কোনো স্থানে এটাই রাশিয়ার প্রথম সামরিক হামলার ঘটনা। রুশ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, সিরিয়ায় রুশ বিমানগুলো অন্তত ২০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করছে, আইএসের বিরুদ্ধে হামলা চালানো মস্কোর আসল উদ্দেশ্য নয়। পুরনো মিত্র সিরীয় নেতা বশির আল আসাদকে রক্ষা করার জন্যই এই হামলা শুরু করেছে রাশিয়া।
এদিকে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ এবং ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, বুধবার মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এছাড়া পশ্চিমা সামরিক ন্যাটোর অভিযোগ, সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে নাম মাত্র সমন্বয় করেছে রাশিয়া। বুধবার হামলা শুরুর মাত্র ঘণ্টাখানেক আগে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন।
এ অবস্থায় দু দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লেভারভ। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন,‘কোনোরকম অনিচ্ছাকৃত ঘটনা এড়াতে দু দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে একটি যোগাযোগ স্থাপন করা জরুরি। এতে সায় দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও। এ নিয়ে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ আলোচনায় বসার তাগিদ দিয়েছেন কেরি। সম্ভব হলে বৃহস্পতিবারই আলোচনায় বসতে পারে দু দেশ। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন কেরি।
সিরিয়ায় গত চার বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। দেশের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের পশ্চিমা মিত্ররা যে কোনো মূল্যে প্রেসিডেন্ট আসাদের পতন চায়। অন্যদিকে আসাদকে ক্ষমতায় রাখতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে মস্কো।

