আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাশ্মীর সঙ্কট নিয়ে ফের জাতিসংঘের দারস্থ হলেন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। বুধবার তিনি এই সঙ্কটের সমাধানে সংস্থাটির সাধারণ সভায় চার দফার একটি প্রস্তাবও পেশ করেছেন। এ সময় তিনি কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তারও সমালোচনা করেছেন।
নওয়াজ শরীফের দেয়া প্রস্তাবগুলো হচ্ছে, ২০০৩ সালের সীমান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে নিয়ে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর দু’দেশের অস্ত্রবিরতি কার্যকর করা। তার মতে দুটি পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শান্তি নিশ্চিত করার এটিই একমাত্র পথ হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, যে কোনো পরিস্থিতিতে কাশ্মীর সীমান্তে সেনাবাহিনী ব্যবহারের হুমকি এড়িয়ে চলা। কেননা, তার মতে এটিই হচ্ছে জাতিসংঘ সনদের মূলমন্ত্র।
তৃতীয়ত, কাশ্মীর রাজ্যটি থেকে ভারতীয় সেনাদের সরিয়ে নেয়া।
চতুর্থত, বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে স্বীকৃত সিয়াচেন হিমবাহ থেকে ভারত ও পাকিস্তানকে নিঃশর্ত সেনা প্রত্যাহারে সম্মত হওয়া।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে নওয়াজ শরিফ বলেন, ভারত ও পাকিস্তান দুটি দেশকেই সংযত আচরণ করতে হবে। বিশেষ করে, সামরিক উদ্যোগ এবং সামরিক উদ্যোগের হুমকি ব্যবহার করার প্রসঙ্গে। এই দু’দেশের সম্পর্কের মধ্যে সংঘাতের বদলে সহযোগিতাই একমাত্র ব্রত হওয়া উচিত। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তার বৃহত্তর লক্ষ্যেই তিনি কাশ্মীর প্রসঙ্গটি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তুলেছেন বলেও জানান।
স্বাভাবিকভাবেই নওয়াজ শরিফের এই চার দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ বলেন, ‘সেনা প্রত্যাহারের কথা না ভেবে পাকিস্তানের জঙ্গি প্রত্যাহারে আরো মনোযোগ দেয়া উচিত।’
প্রসঙ্গত, ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই কাশ্মীর ইস্যুটি নিয়ে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে একাধিকবার সীমান্ত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছির দেশটি। পাকিস্তান বরাবরই জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় এই সঙ্কটের সমাধানে আগ্রহী। তবে ভারত কাশ্মীরকে তাদের অভিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে মনে করে এবং এ নিয়ে তারা তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনার বিরোধিতা করে থাকে।

