লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করায় ১৭ জেলেকে আটক করে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড এবং পুলিশ। এদের মধ্যে ১৪ জনকে ১ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ৩ জনকে ১ হাজার করে জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউল হাসান, সমর কান্তি বসাক সোমবার রাতে পৃথক পৃথকভাবে এইসব রায় প্রদান করেন। পরে মঙ্গলবার সকালে দন্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এর আগে মৎস্য বিভাগ ও পুলিশ রামগতি জারিরদোনা খাল ও সদর উপজেলা মজু চৌধুরী হাট ও কমলনগর মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ইলিশের ভরা প্রজনন মৌসুম চলছে। এ সময়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। তবুও জেলেরা নদীতে মাছ শিকার করছিল। পরে অভিযান চালিয়ে ১১ জেলেকে আটক করা হয়। সোমবার রাতে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে প্রত্যেককে ১ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
সদর উপজেলা মৎস্য অফিসার আবুল কাসেম জানান, সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘনা নদী থেকে কোস্টগার্ড কমান্ডার শামিম আক্তারসহ মৎস্য বিভাগ অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ১১ কেজি জাটকা ইলিশসহ চর রমণীমোহন ইউনিয়নের মৃত শাহ আলম ব্যাপারীর ছেলে আবুল বাশার (৩৭), ফিরোজ আলমকে (৩০) আটক করে। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি সমর কান্তি বসাক প্রত্যেককে ১ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করার আদেশ দেয়। এছাড়া পৃথক অভিযান চালিয়ে জেলার কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীর হেটনার খাল এলাকা থেকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইব্রাহিম হামিদ শাহিন, এস আই কামরুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে ১ হাজার মিটার কারেন্টজাল, ৩ কেজি জাটকা ইলিশসহ বালুর চর গ্রামের আবদুর রহিম (৩৫), আকবর হোসেন (৩২), আবদুর হান্নান (৩৪), আক্তার হোসেনকে (২৮) সোমবার সকালে অভিযান চালিয়ে আটক করে। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে বিচারক ৩ জনকে কারাদণ্ড ও ৩ জনকে জরিমানা করেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম মহিব উল্যা জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার সকালে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আটককৃত মাছগুলো এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ০৯ অক্টোবর ইলিশের প্রজনন মৌসুম। এ ১৫ দিন লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা নদীর প্রায় ১শ কিলোমিটার এলাকায় মাছধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ডিমওয়ালা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ সময় ইলিশ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ পরিবহন বাজারজাতকরণ ও মজুত নিষিদ্ধ। এ আইন অমান্য করলে কমপক্ষে ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

