কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র একদিন। প্রতি বছরের মতো কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবারও অনুষ্ঠিত হবে ঈদের জামাত। এবারের ১৮৮তম ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণকে উপেক্ষা করে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই প্রস্তুত হচ্ছে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান।
বৃহত্তম এ ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। এ মাঠের রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরুর ৫ মিনিট, ৩ মিনিট ও ১ মিনিট আগে নামাজের প্রস্তুতি হিসেবে শটগানের গুলি ছোড়া হবে। এ ছাড়াও ঐতিহ্যবাহী শহরের শহীদি মসজিদেও সকালে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র মতে, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে মোট ২৬৫টি কাতার হয়। প্রতি কাতারের নামাজির সংখ্যা হয় ৬ থেকে ৭ শত। সেই হিসেব অনুযায়ী নামাজির সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫ শত। ঈদের জামাতে মুসল্লি মাঠে উপচে চারপাশের খালি জায়গা জমি খেত, বসত বাড়ির আঙ্গিনা ভরে যায়।
জানা গেছে, ইতিহাস প্রসিদ্ধ এই ঈদগাহের জমির পরিমাণ ৬.৬১ একর। এর পশ্চিম সীমারেখা উত্তর দক্ষিণে ৩৩৫ ফুট এবং পূর্ব সীমারেখা উত্তর দক্ষিণে ৩৪১ ফুট এবং উত্তর সীমারেখা পূর্ব-পশ্চিমে ৭৮৮ ফুট ও দক্ষিণ সীমারেখা পূর্ব পশ্চিমে ৯১৪ ফুট দৈর্ঘ্য।
বুধবার সরেজমিনে ঈদগাহ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, শতাধিক শ্রমিক অবকাঠামো প্রস্তুতির কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণে কর্দমাক্ত মাঠকে নামাজের উপযুক্ত করে তুলতে চলছে মাটি ভরাটের কাজ। কিন্তু বৃষ্টির বাগড়া যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। থেমে থেমে বৃষ্টি প্রতিনিয়তই চলছে, এতে করে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে মাঠ প্রস্তুতির কাজ। তবুও থেমে নেই ঈদুল আজহার জামাতের প্রস্তুতি।
বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করেও ঈদগাহ ময়দানজুড়ে কাতারের লাইন টানা, মাঠ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নকরণ ও ধোয়া-মোছার কাজ পুরোদমে চলছে। মাঠে পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নসহ মুসল্লিদের নামাজ পড়ার উপযোগী করে তোলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদে বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় পানি নির্গমনের দিকে গুরুত্ব বেশি দেওয়া হচ্ছে। ময়দানের আশপাশে কোথাও যেন পানি না জমে সে দিকটি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, শোলাকিয়ার ঈদ জামাত উপলক্ষে মাঠ ও এর আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। প্রবেশদ্বারে বসানো হবে আর্চওয়ে। এ ছাড়া জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ক্যাম্প বসানো হবে এবং সাদা পোশাকে পুলিশের গোয়েন্দা দল মোতায়েন থাকবে ঈদগাহ এলাকায়। বিশাল এবং ঐতিহ্যবাহী এ ঈদ জামাতের নিরাপত্তাবিধান করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে। ঈদের দিন পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও নিরাপত্তার কাজে মোতায়েন থাকবে। ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহার নামাজও নির্বিঘ্নে এবং নিরাপদে অনুষ্ঠিত হবে।

