ঢাকাMonday , 21 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাবনায় কালিমন্দিরের ৭ একর জমি প্রভাবশালীদের দখলে
জাল দলিল তৈরির অভিযোগ

Link Copied!

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শফিউল আযম, বেড়া (পাবনা) : পাবনার ফরিদপুরের ডেমরা বাজারের কালিমাতা ঠাকুরানী বিগ্রহ মন্দিরের নামের প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের ৭ একর ভূসম্পত্তি স্থায়ীভাবে বেদখল হতে বসেছে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কালিমাতা বিগ্রহ মন্দিরের কতিপয় অসাধু সেবায়েতের যোগসাজশে জাল দলিল তৈরি করে মন্দিরের ভূসম্পত্তি জোরপূর্বক ভোগ দখল করছে বলে মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।
গত শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা ইউনিয়নের ডেমরা বাজারের কালিমাতা বিগ্রহ মন্দিরের নামে ৭ একর ২২ শতাংশ (প্রায় পৌনে ২২ বিঘা) জমি রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ ভূসম্পত্তি ডেমরার জমিদার রায় পরিবার কালিমাতা ঠাকুরানী বিগ্রহ মন্দিরের নামে সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য দান করেন। মন্দির রক্ষণাবেক্ষণ ও পূজা-অর্চনার ব্যয় বহনের জন্য কালিমাতার নামে এই সম্পত্তি দান করা হয়। এ জন্য রায় পরিবার থেকে সেবায়েত নিয়োগ করা হয়।
কালিমাতা ঠাকুরানী বিগ্রহ মন্দিরের ভূসম্পত্তির রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ডিএস রেকর্ড সর্বসাধারণের ব্যবহারিক এসএ রেকর্ডে শ্রী শ্রী কালিমাতার নামে এবং আরএস-এ কালিমাতা পক্ষে রায় পরিবারের উত্তরাধিকারীদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। এ সুযোগে সেবায়েত ব্রজেন্দ্র কুমার রায়, নিরেন্দ্র নাথ রায় ও প্রভাত চন্দ্র রায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে ডেমরা বাজারের জায়গা গোপনে স্থায়ী লিজ প্রদান করেন। লিজ গ্রহিতারা পাকা, আধা পাকা ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তারা জাল দলিলপত্র তৈরি করে মন্দিরের জায়গা স্থায়ীভাবে দখল করে নিয়েছে বলে মন্দির কমিটি অভিযোগ করেছেন।
মন্দির কমিটির অভিযোগে জানা যায়, ডেমরা রায় পরিবারের সদস্য মন্দিরের সেবায়েত নিরেন্দ্র নাথ রায় ও প্রভাত চন্দ্র রায় আইনের তোয়াক্কা না করে প্রায় ১৮-১৯ বছর আগে কালিমাতা মন্দিরের পাঁচ একর ৭৬ শতাংশ জলাশয় ও আবাদি জমি ফরিদপুর উপজেলার পুঙ্গলী ইউনিয়নের দিঘুলিয়া গ্রামের মঞ্জুরুল নাজিমের তালুকদার মাল্টিফার্মের নামে এককালীন ৩ (তিন) লাখ টাকা এবং বাৎসরিক ১০ হাজার টাকা ইজারার বিনিময়ে ৯৯ বছরের জন্য লিজ প্রদান করেন। মঞ্জুরুল নাজিম তালুকদার মাল্টিফার্মের নামে মন্দিরের জায়গা দখলে নিয়ে মৎস্য ও কৃষি খামার গড়ে তোলেন। এই লিজ প্রদানে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন মতামত নেয়া হয়নি। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে শ্রী শ্রী কালিমাতা ঠাকুরানী বিগ্রহ মন্দির পরিচালনা ও পূজা অর্চনা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করেন।
এই লিজ বাতিলের জন্য মন্দির কমিটির পক্ষে সন্তোষ কুমার কুন্ডু বাদি হয়ে পাবনা সাব-জজ আদালতে ৭১/৯৪ নম্বর মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক লিজ বাতিলের আদেশ দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে তালুকদার মাল্টিফার্মের পক্ষে মঞ্জুরুল নাজিম পাবনা জজ আদালতে ১৩৪/৯৫ নম্বর আপিল মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে তালুকদার মাল্টিফার্ম হাইকোর্টে ২৩৬৭/২০০১ নম্বর মামলা দায়ের করে। হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি নিম্ন আদালতের লিজ বাতিলের আদেশ বহাল রেখে রায় দেন। উচ্চ আদালতের রায়ের পরও তালুকদার মাল্টিফার্ম কালিমাতা ঠাকুরানী বিগ্রহ মন্দিরের জায়গা বুঝে দিচ্ছেন না বলে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী মনিন্দ্র নাথ সূত্রধর ওরফে তুফান মেম্বর অভিযোগ করেন।
এদিকে, ফরিদপুর উপজেলার রতনপুর গ্রামের প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক, আবু সাইদ, মোছা: নুরজাহান বেগম, রেজাউল করিম তালুকদার ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেজিস্ট্রার খন্দকার এ জলিলের যোগসাজশে জনৈক ব্রজেন্দ্র নাথ রায়কে মৃত: নিরেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে সাজিয়ে কালিমাতা ঠাকুরানী বিগ্রহ মন্দিরের নামের ৭ একর ২২ শতাংশ জলাশয়, কৃষি জমি ও বাণিজ্যিক ভূমির মধ্যে ২ একর ৮৯ শতাংশ জলাশয় ও কৃষি জমি মাত্র ১৬ লাখ টাকায় ২০০৯ সালের ৪ মার্চ ২৪৯/০৯ নম্বর দলিল মুলে রেজিস্ট্রি করে নেয়। ব্রজেন্দ্র নাথ রায়ের পিতার নাম বলরাম নাথ রায়। তিনি ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, নিরেন্দ্র নাথ রায় এক সময় ওই কালিমাতা মন্দিরের সেবায়েত ছিলেন। সে হিসেবে ডেমরা মৌজার ৩৯০ খতিয়ানের ৮১ এবং ৮২ দাগের পরচায় কালিমাতা ঠাকুরানীর পক্ষে সেবাইত নিরেন্দ্রনাথ রায়ের নাম লেখা ছিল। কালিমাতা ঠাকুরানীর পক্ষের জায়গায় ফটোকপিতে ‘পক্ষে’ লেখা উঠিয়ে দিয়ে নিরেন্দ্র নাথ রায়কে মালিক দেখিয়ে এই জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। পর্চা টেম্পারিং এবং ভুয়া মালিকের বিষয়টি মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রার খন্দকার এ জলিলকে অবহিত করা হয়। কিন্তু তিনি বিষয়টি আমলে না নিয়ে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে গোপনে দলিল রেজিস্ট্রি করে দেন বলে মন্দির কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন। মহলটি দলিল সম্পাদনের পর সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের ২ একর ৮৯ শতাংশ জমি দখলের চেষ্ট করছে। এদিকে সন্ত্রাসীরা মন্দির কমিটির সদস্যদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে প্রকৌশলী মোজাম্মেল হকের দাবি, তিনি প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি দলিল মূলে ২ একর ৮৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। জিপির আইনি মতামত নিয়ে জমির খাজনা খারিজ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তালুকদার মাল্টিফার্ম অবৈধভাবে ওই সম্পত্তি দখলে রেখেছে। ডেমরা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, দীর্ঘ দিন ধরে মন্দির কমিটির সাথে মন্দিরের জায়গা নিয়ে লীজ গ্রহীতা ব্যবসায়ীদের বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক গং খরিদ সূত্রে ২ একর ৮৯ শতাংশ জয়গার মালিকানা দাবি করলে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। যে কোন সময় সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশংকা প্রকাশ করছেন।
ফরিদপুরের তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রার খন্দকার এ জলিলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার সময়ে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা স্মরণ করতে পারছেন না। ডেমরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মলয় কুমার কুন্ডু বলেন, কালিমাতার নামের এই সম্পত্তি বিক্রি হতে পারে না। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল জাল দলিল তৈরি করে মন্দিরের সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে এলাকায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। সমস্যা সমাধানে তিনি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।