বাগেরহাট প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া মাছধরা ট্রলারের নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনী যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৬ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মংলাস্থ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন কাজী মেহেদী মাসুদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সমুদ্র খুবই উত্তাল। এই অবস্থায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা বেশ কঠিন। রোববার আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকুল থাকায় উদ্ধার কাজ বন্ধ হয়ে যায় তবে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে আবারও উদ্ধার ও অনুসন্ধান কাজ শুরু করবে কোস্টগার্ড। উদ্ধার কাজে অংশ নিতে সকালে কোস্টগার্ডে আরও একটি দল মংলা থেকে রওনা হয়েছে।
শনিবার দিনগত গভীর রাত থেকে সাগরে বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া বইছে। ফেয়ারওয়ে বয়া, দুবলার চর ও হিরণপয়েন্ট এলাকায় বেশ কিছু ট্রলার ডুবির খবর পাওয়া যায়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত পর্যন্ত নৌ বাহিনীর জাহাজ ২৫ জেলে এবং কোস্ট গার্ডের টহল বোট ৫১ জন জেলেকে উদ্ধার করেছে। তবে তাৎক্ষণিক তার নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের সবার বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা, রামপাল ও বরগুনার পাথরঘাটা এলাকায়। অর্ধশতাধিক ট্রলারসহ বেশ কয়েকজন জেলে সুন্দরবনের দুবলার চর, কপিলমুনি ও সুপতি কোস্টগার্ড স্টেশনে আশ্রয় নিয়েছেন। উদ্ধার ও আশ্রয় নেয়া জেলেদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো না হওয়া পর্যন্ত তাদের ক্যাম্প ত্যাগ করতে নিষেধ করা হয়েছে বলে জানান মেহেদী মাসুদ।
এদিকে, সাগর উত্তাল থাকায় ও দুর্যোগের কবলে পড়ে শত শত ট্রলার সুন্দরবনের কচিখালী, সুপতি, কটকা, নারকেলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকার খালে আশ্রয় নিয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, লঘুচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। মাঝে মাঝেই দমকা বাতাস বইছে। সতর্ক রাখা হয়েছে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বন বিভাগের বিভিন্ন ক্যাম্প ও টহল ফাঁড়িতে থাকা বনকর্মীদের।
এদিকে রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সুন্দরবনের উপর দিয়ে ভারী ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। ঝড়ের কবলে কয়েকটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার খবর ও পেয়েছি। এরমধ্যে দুবলারচরের আলোরকোলের কাছে একটি ট্রলার ডুবির পর বন বিভাগের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করেছে।

