ঢাকাSaturday , 19 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এখন আমার কী হবে!

Link Copied!

koneলক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : ‘পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের জন্য সকল আয়োজন করে নিজ হাতে মেহেদী পরেও বরের দেখা পেলাম না। এখন আমার কী হবে! কীভাবে সমাজে আমি ও আমার পরিবার মুখ দেখাবো। আর তো কোনো জায়গা রইলো না ভাই। ভবিষ্যতে আমার কী হবে আমি জানি না।’
এভাবেই সদ্য ভেঙে যাওয়া নিজের বিয়ে সম্পর্কে বিষাদে ঘেরা খা খা বাড়িতে বসে কথাগুলো বলেছিলেন কনে কলেজছাত্রী ফাতেমা আকতার শাহানাজ।
জেলার রামগঞ্জ উপজেলার কলেজছাত্রী ফতেমা আকতার শাহনাজ পারিবারিকভাবেই বিয়ের ব্যবস্থা হয়। বিয়ে বাড়িতে কেউ ব্যস্ত কনের হাতে মেহেদী লাগাতে, কেউ ব্যস্ত আনন্দ উৎসবে ও ডেকোরেটরের লোকজন ব্যস্ত প্যান্ডেল ও রান্না-বান্না নিয়ে। সকল আয়োজনও প্রায় শেষ। সবার মতো শাহনাজও অপেক্ষা করছে তার বরের জন্য। সকাল ১১টার দিকে হঠাৎ বরের পক্ষের একটি ফোন আসে। সব আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়। এক লহমায় আনন্দোময় বাড়িতে কান্নার আহাজারি আর হাতাশার কালো মেঘে ঢেকে যায়।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামের থানা বাড়িতে। শাহানাজ একই এলাকার মুনছুর আহম্মেদের মেয়ে ও গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাশমত ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্রী।
বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর এভাবে সবার মন বিষন্নতায় ম্রিয়মান।
সকালে সরজমিনে গিয়ে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামের থানা বাড়ির মুনছুর আহাম্মেদের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে শাহানাজের সঙ্গে ফরিদগঞ্জ উপজেলার কাওনিয়া এলাকার মোহাম্মদ আলী ব্যাপারী বাড়ির মুকবুল আহম্মদের প্রবাসী ছেলে মহসীনের (২৬) প্রায় ১ সপ্তাহ আগে বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়। এতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে মেয়ে পক্ষ বাড়িতে ২ শতাধিক মেহমান থেকে শুরু করে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করেন।
সকাল ১০টায় ফোনের মাধ্যমে বিয়ের কনে সাজানো ও লেনদেন নিয়ে বরের বাবার সঙ্গে কনের বাবার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় বরের বাবা জানান, আমার দাবি না মানলে এ বিয়ে হবে না। এ ঘটনায় বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্থানীয় লোকজন বরের বাড়িতে গিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেও এ বিয়ের কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। এতে কনেপক্ষের প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়।
এ ঘটনায় বর ও বরের বাবার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ওই এলাকার স্থানীয় চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন বিষয়টি শোনার পর ছেলে এবং ছেলের বাবাকে একাধিকবার বুঝানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু তার না মানায় বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা যায়নি।
যোগাযোগ করা হলে রামগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ‘যৌতুকের দাবিতে বিয়ে ভাঙার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। মেয়েটি কলেজছাত্রী হওয়ায় তার বয়স আইনগতভাবে ১৮ বছর সম্পূর্ণ না হওয়ায়  আমাদের পক্ষ থেকে তেমন কিছুই করতে পারছি না। তারপরেও কোনো সুযোগ থাকলে সেভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।