নিজস্ব প্রতিবেদক : ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিনেও কমলাপুর স্টেশনে ছিল উপচেপড়া ভিড়। ২০টি কাউন্টারই ছিল লোকে ঠাসা। লম্বা লাইন থাকায় টিকিট পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা। ভোগান্তির পরেও যারা টিকিট পেয়েছেন তাদের মুখে ছিল হাসির ঝিলিক।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিদিন আড়াই লাখ যাত্রী পরিবহন করার টার্গেট নিয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আগাম টিকিট বিক্রি শুরু করে রেল কর্তৃপক্ষ। আজ শনিবার শেষ হচ্ছে রেলের আগাম টিকিট বিক্রি।
একইসঙ্গে বিআরটিসি বাস ও লঞ্চের আগাম টিকিট বিক্রি হওয়াতে শনিবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিটের জন্য কমলাপুর রেলস্টেশনে গতকাল শুক্রবারের চেয়ে মানুষের চাপ ছিল কম। তবে সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০টি কাউন্টারেই ছিল টিকিট প্রত্যাশীদের ভির।
স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী জানান, ‘শনিবার শেষ দিনে লোকাল যাত্রী বেশি আছে। তবে গত কয়েক দিনের চেয়ে আজ ট্রেনের অগ্রিম টিকিটের জন্য লাইনের সারিটাও হয়েছে বেশ ছোট।’
তিনি বলেন, ‘গতকাল ( শুক্রবার) যাত্রী চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে আমাদের। তবে আজ মোটামুটি যাত্রী চাপ কম হওয়ায় মানুষ নির্বিঘ্নে টিকিট কিনতে পারছেন।’
তিনি বলেন, আজ মোট ১৪ হাজার ৬৩৩টি টিকিট দেওয়া হবে। গতকাল অনেকে টিকিটবঞ্চিত হলেও আজ টিকিটপ্রাপ্তিতে কোনো সমস্যা হবে না।
অগ্রিম টিকিটের জন্য কেরানীগঞ্জ থেকে ভোরে এসে কাউন্টারে দাঁড়িয়েছেন ইসরাত জাহান। তিনি স্বামী-সস্তান নিয়ে রাজশাহীতে যাবেন ঈদ করতে। সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি তিনটি টিকিট হাতে পেয়েছেন।
এভাবে রংপুরগামী কবি বেলাল, সৈয়দপুরগামী শাহীন করিম, খুলনাগামী শাহীন রেজাও হাতে পেয়েছেন কাঙ্খিত টিকিট। তারা অভিযোগ করে বলেছেন, বাইরে দালালদের অতিরিক্ত টাকা দিলে তারা টিকিট পাইয়ে দেয়। তাহলে কী দাঁড়ায়, টিকিট কালো বাজারে চলে না গেলে কিভাবে বেশি টাকা দিলে টিকিট মিলছে? এই হচ্ছে রেলওয়ের ব্যবস্থাপনা।
শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কমলাপুর স্টেশনে অবস্থান করার সময় বেশ কয়েকজন টিকিট প্রত্যাশী অভিযোগ শোনেন এই প্রতিবেদক। তবে তারা এটাও বলেছেন, গত ৪ দিন যে হারে টিকিট কালোবাজারে গেছে, আজ শনিবার সেই হারে কালোবাজারিদের কাছে যায়নি। সে কারণেই দেরী হলেও আমরা টিকিট পেয়েছি।
আজ শনিবার বিকেলে টিকিট বিক্রির শেষদিনে রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক কমলাপুর রেল স্টেশন পরিদর্শন করার কথা রয়েছে বলে জানান রেলস্টেশন ম্যানেজার।
রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) জানান, ঢাকার কমলাপুরে রেলওয়ে স্টেশনে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে টিকেট বিক্রি হচ্ছে। টিকেট ক্রেতারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত গন্তব্যের টিকেট ক্রয় করছেন। টিকেট বিক্রির সময় রেলওয়ের কর্মকর্তাগণ তদারকি করছেন।
তিনি জানান, টিকেট কালোবাজারি রোধে ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর সদস্যরা স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি করছেন। এ পর্যন্ত আজ শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

