ঢাকাSaturday , 19 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিক্ষকদের ‘নরম’ করতে পারেননি শিক্ষামন্ত্রী

Link Copied!

nahidনিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ ৯০ মিনিটের রূদ্ধদ্বার বৈঠক করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষকদের ‘নরম’ করতে পারেননি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষকরা নিজেদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে অনঢ় অবস্থানের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রীকে। ফলে শিক্ষকদের আন্দোলন চলমান থাকবে, সেই সঙ্গে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুষ্ঠিতব্য স্নাতক (প্রথম বর্ষ) ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
বৈঠক সূত্রে এ সকল তথ্য পাওয়া গেছে।
শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন ও তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে শনিবার সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর হেয়ার রোডে শিক্ষামন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালসহ চারজন শিক্ষক নেতা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘আমি আশা করছি, শিক্ষকদের সব সমস্যা অতি দ্রুতই সমাধান হবে এবং তারা খুব শিগগিরই হাসিমুখে ঘরে ফিরবেন। শিক্ষকদের আন্দোলনের ব্যাপারে সরকারের উর্দ্ধতন ব্যক্তিরা ওয়াকিবহাল আছেন। আমরাও এর দ্রুত সমাধান চাচ্ছি।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি গত পাঁচ থেকে ছয়দিন দেশের বাইরে ছিলাম। কিন্তু প্রতিনিয়ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছি। সেজন্যই কাল (শুক্রবার) দেশে ফিরেই, আজ তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছি। শিক্ষকদের সঙ্গে আমার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যেই শিক্ষকদের বেতন ও পদমর্যাদা পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
শিক্ষকদের পৃথক বেতন কাঠামোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বেতন ও পদমর্যাদা পর্যালোচনার জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। তবে শিক্ষকদের মর্যাদা কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে সৃষ্ট জটিলতার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করছি ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে কোনো সমস্যা হবে না। আমাদের আলোচনা চলমান থাকবে।’
বৈঠক শেষে শিক্ষক সমিতির ফেডারেশন সভাপতি ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘গত চার মাস ধরে বেতন কাঠামোর বিষয়টি নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আর্কষণ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখি নাই। আমাদের প্রথম ও প্রধান দাবি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো। এ দাবিতে আন্দোলনও চলবে, আলোচনাও চলবে।’ ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে বলে জানান তিনি।
মহাসচিব এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘পৃথক বেতন কাঠামোর জন্য অবিলম্বে একটি কমিশন গঠন করতে হবে। এটি আমরা বলেছি। তবে ঈদের আগেই আমরা আমাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা চাই। আর অর্থমন্ত্রী এ মাসের শেষে দেশের বাইরে যাচ্ছেন, তিনি ফিরবেন আগামী মাসের ১৯ তারিখে। এ সময়কালে বেতন ও পদমর্যাদা পর্যালোচনা কমিটির কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হবে- সেটাও কিন্তু আমরা জানি না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি ও অবমাননার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেলসহ ৪ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের ডাকে বেশ কয়েকদফা কর্মবিরতিসহ নিজ নিজ ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা। এরপর একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাও বর্জনের হুমকি দেন শিক্ষক নেতার। এতে উচ্চ শিক্ষায় বেশ শঙ্কার অবস্থা সৃষ্টি হয়। ফেডারেশন থেকে বলা হয়, শিক্ষকদের দাবিসমূহ বিবেচনা না করেই সম্প্রতি বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে এবং সিলেকশন গ্রেড বাতিল করা হয়েছে। ফলে বেতন কাঠামোতে শিক্ষকদের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি। উপরন্তু শিক্ষকদের দাবি আদায়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো রকম কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
এরপর জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো পর্যালোচনায়  অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে এ কমিটির প্রধান করে বেতন বৈষম্য দূর করা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার।
কিন্তু অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় এ কমিটির সঙ্গে বর্তমানে কোনো ধরনের আলোচনায় যেতে রাজি নন বলেও জানান শিক্ষকরা। আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শিক্ষকদের দাবি ছিল একটি স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রণয়ন করা। কিন্তু সরকার সেটা মেনে না নিয়ে জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো পর্যালোচনায় বেতন বৈষম্য দূর করা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন করেছে। কমিটিতে অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে সরকারের বেশকিছু মন্ত্রী ও আমলাকে সদস্য করা হয়েছে। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর কাছে আগে যেহেতু আমরা সুবিচার পাইনি, আগামীতেও সুবিচার পাব বলে আশা করি না।
শিক্ষামন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে গতকাল শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী দেশে ফেরার পর শিক্ষক নেতারা তার সঙ্গে আলোচনার সময় নির্ধারণ করেন। এরপরই আজ (শনিবার) এ আলোচনা হল।