বিনোদন ডেস্ক : ‘এই যা, ফ্লাইটটা মিস হয়ে গেল!’ মুখটা গোমড়া করে বসে আছেন নুসরাত ফারিয়া। কলকাতার ফ্লাইট ধরতে সেই সাতসকালে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু বিধিবাম! প্লেনটা একদম নাগালের বাইরে! কলকাতায় তার যাওয়াটা ফরজ। কাল জীবনের প্রথম সিনেমা ‘আশিকি’ মুক্তি পাচ্ছে কলকাতায়। ছবির নায়িকা আটকা আছেন এয়ারপোর্টে। সিনেমায় এমন ঘটনা ঘটলে হয়তো নায়ক এসে নায়িকাকে উদ্ধার করতেন। তবে এয়ারপোর্টে কিন্তু সত্যি সত্যিই নায়কের সন্ধান মিলল।
নায়কের নাম ‘প্লেন’! নায়কের আগমন বার্তায় নুসফা তো আকাশ থেকে পড়লেন! যাক কলকাতা যাওয়া হচ্ছে তাহলে! আশার নদীতে প্লেন ভিড়ছে তাহলে। তড়িঘড়ি করে টিকিট টা কেটে ফেললেন। জানা গেল যন্ত্ররূপী নায়ক আসবেন সাড়ে তিনটা নাগাদ। তখন সময় দুটো বেজে দশ। হাতে ঢের সময়। আস্তে ধীরে কথা শুরু হলো। ফ্লাইটটা মিস হয়ে কিন্তু একটা কাজের কাজ হয়েছে! ভ্রু দুটা এক করে নুসফার জিজ্ঞাসা, ‘কি কাজ? ‘এই যে ফ্লাইটটা মিস না করলে তো আর বসে বসে খোশ-গল্প করা হতো না!’ হাসতে হাসতে বললেন, ‘ও তাই বলেন!’ ইন্টারভিউটা তাহলে শুরু করা যাক নাকি? ‘শিওর’। কিন্তু কি দিয়ে শুরু করবো। মাথায় তো একগাদা প্রশ্ন।
বলিউড যাত্রা থেকে এবেলা বিতর্ক। হাজারটা প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় পাঠক। প্রশ্নে বিদ্ধ করার আগে আপনাকে এক মিনিট সময় দেয়া হলো। যাচ্ছেতাই বলতে পারেন। ‘প্রথমেই বলবো বলিউড যাত্রা নিয়ে। দেখুন, আমাকে নিয়ে যে যার মতো করে নিউজ করছে। আমি কোথাও কোন স্টেটমেন্ট দেইনি আমিই বাংলাদেশ থেকে প্রথম বলিউডে অভিনয় করছি। কখনো দাবীও করিনি। ববিতা ম্যাডাম, শাবানা ম্যামরা এর আগে কাজ করেছেন। একজন বাংলাদেশী হিসেবে বলিউডে অভিনয় করতে গিয়ে দায়িত্ববোধটাও বেশি।’-বললেন নুসরাত।
আর এবেলা বিতর্ক?
বাখ্যা করলেন ফারিয়া, ‘পুরো বিষয়টায় একটা মিসআন্ডারস্টান্ডিং। এবেলা থেকে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ফিল্মে কাজের ইচ্ছাটা জাগল কিভাবে? আমি বলেছিলাম, আমি তো ছোটপর্দায় কাজ করি। আমার কাছে ইন্টাস্ট্রি বলতে টিভি ইন্ডাস্ট্রিই। কারণ আমিতো ফিল্মে কাজ করিনি। ফিল্ম নিয়ে আমার তেমন ধারণা ছিলনা। কিন্তু এবেলা বিষয়টাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে উপস্থাপন করেছে।’
আর ফ্যান-ফলোয়ারের বিষয়টা? ‘অনেক জায়গায় রিপোর্ট হতো অমুকের এতো ফ্যান-ফলোয়ার। একজন আরেকজনকে ছাড়িয়ে গেলেন। বিষয়টা দেখে ভেবেছিলাম, ফেসবুকে ফ্যান-ফলোয়ার দেখেই স্টার নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পরে জানলাম ফিল্মের জগতটা অনেক বড়। এখানে স্টার হতে গেলে অ্যাকটিংটা ঠিকভাবে জানতে হয়।’
আপনার বক্তব্য ঘুরিয়ে প্রকাশ করলো ‘এবেলা’। এটা নিয়ে দেশে সমালোচনার মুখে পড়লেন। ঘটনাটা কি এবেলাকে জানিয়েছেন? তারা আপনার সঙ্গে এমনটা কেন করল? ‘এবেলার সাংবাদিককে আমি ফোন দিয়েছিলাম। তার কাছে ইন্টারভিউয়ের রেকর্ড ছিল। রেকর্ডটা আবার শুনেছেন। সেই সাংবাদিক স্বীকার করেছেন, দু’ এক লাইনের এদিক ওদিক হওয়ায় বক্তব্যটা পাল্টে গেছে।’
কথারই একফাঁকে বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নিয়েও সম্ভাবনার কথা শোনালেন ফারিয়া। কলকাতায় যাবার আগে বলে গেলেন, ‘বাংলাদেশের ফিল্ম অনেক ডেভেলপ করছে। সবার আগে বাংলাদেশ। তারপর অন্য কিছু। আমি যেখানেই অভিনয় করি না কেন বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করবো।’ কথায় কথায় বেলা চলে যায়।
কেউ একজন জানালেন, কিছুপরই কলকাতার ফ্লাইট। সব গুছিয়ে প্লেনে চেপে বসলেন ফারিয়া। প্লেন ছাড়ল। মেয়েটা এখন সত্যি সত্যিই আকাশে উড়ছে..

