স্পোর্টস ডেস্ক : চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে দুই জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ ও বায়ার লেভারকুসেন। টমাস মুলারের জোড়া গোলে প্রতিপক্ষ অলিম্পিয়াকোসের মাঠে স্বাগতিকদের ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে পেপ গার্দিওলার বায়ার্ন মিউনিখ। অন্যদিকে হাকান কালহানোগলুর জোড়া গোল এবং হাভিয়ের হার্নান্দেজের গোলে বাতে বরিসোভকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বায়ার লেভারকুসেন।
বুধবার প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথমার্ধে গোল করতে ব্যর্থ হয় বায়ার্ন মিউনিখ। খেলার নির্ধারিত সময়ের শেষ দুই মিনিটে দুই গোলের কল্যাণে ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে সক্ষম হয় পেপ গার্দিওলার দল। টমাস মুলারের জোড়া গোলের পাশাপাশি বাভারিয়ানদের হয়ে অপর গোলটি করেন মারিও গোটশে।
প্রথমার্ধে দুর্দান্ত খেলে অলিম্পিয়াকোস। বায়ার্ন মিউনিখকে তো গোলের তেমন কোনো সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেইনি, উল্টো বেশ কয়েকবার বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে স্বাগতিকরা। খেলার অষ্টম মিনিটে প্যাতিম কাসামির হেড দুর্দান্ত দৃঢ়তায় রুখে দিয়ে দলকে গোল হজম থেকে রক্ষা করেন নয়ার। এরপর আলেজান্দ্র ডমিংগুয়েজের গোলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল অলিম্পিয়াকোস। তবে তার নেয়া দুর্বল শট কোনো রকম পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি নয়ারকে।
বিরতির দুই মিনিট আগে জাবি আলানসোর শট অলে।পর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে এগিয়ে যেতে ব্যর্থ হয় পেপ গার্দিওলার দল। প্রথমার্ধে কোনো দল গোল করতে না পারায় ০-০ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পরপরই এগিয়ে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। ৫২তম মিনিটে রবার্তো লেভেন্দোভস্কির ক্রস থেকে দারুণ এক শটে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপান টমাস মুলার। এরপর বায়ার্ন ও অলিম্পিয়াকোস দুই দলই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে। তবে কোনোভাবেই গোল পাচ্ছিল না কেউই। খেলা যখন ১-০ ব্যবধানে শেষ হবে বলেই ধরে নিয়েছিল সবাই তখনই জ্বলে উঠেন মুলার ও গোটশে।
৮৯ ও ৯৩ মিনিটে গোটশে ও মুলার গোল করলে বড় জয় নিশ্চিত হয় বায়ার্ন মিউনিখের। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে মারিও গোটশে দলের হয়ে ব্যবধান দ্বিগুন করেন। কিংসে কোমানের ক্রস থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক শটে গোল করে দলকে ২-০ তে এগিয়ে নিয়ে যান ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালের একমাত্র গোলদাতা।
চার মিনিট পর ফের গোলের দেখা পায় পেপ গার্দিওলার দল। ম্যাচের ইনজুরি সময়ে ডি বক্সের ভেতরে স্বাগতিক দলের ফিফেন্ডার বায়ার্নের মাসুয়াকো কোমানকে বাজে ট্যাকল করলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট-কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন টমাস মুলার।
দিনের অপর ম্যাচে হাকান কালহানোগলুর জোড়া গোল এবং হাভিয়ের হার্নান্দেজের গোলে বাতে বরিসোভকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনার সঙ্গে একই গ্রুপে থাকা বায়ার লেভারকুসেন। অন্যদিকে বার্সেলোনা ও এএস রোমার মধ্যকার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।
দিনের অপর ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে জেনিত। অন্যদিকে পোর্তো ও ডায়নামো কিয়েভের মধ্যকার ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।

