নিজস্ব প্রতিবেদক : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন বাংলা একাডেমি বাংলা ভাষায় শৃঙ্খলা আনার ব্যাপারে অবদান রাখছে। তবে বানানের নিয়মের ক্ষেত্রগুলো এখন যতই সহজীকরণ করা হোক না কেন, চর্চা না থাকলে আমরা তা ভুলে যাবো। তাই ভাষার চর্চার কোনো বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত জাতীয় ভাষা দিবস-২০১৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের সময়ে বাংলা ভাষার বানানের ক্ষেত্রে সেই রকম কোনো আইন-কানুন ছিলো না। ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ সালের দিকে বানানের কিছু নিয়ম আসলো, তখন অনেক নতুন নিয়ম-কানুন ঢুকে পড়লো। যেখান থেকে আমাদের এখনো অনেক সময় ই-কার ও ঈ-কার জটিলতা সৃষ্টি করে। তাই এখন আমরা ঈ-কারকে এক প্রকার বিদায় দিয়েছি।’
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘অন্যান্য দেশ যেভাবে সর্বাবস্থায় তাদের মাতৃভাষার চর্চা করে, সেইভাবে আমরা আমাদের বাংলা ভাষাকে চর্চা করতে পারি না। অনেককে দেখেছি যারা নিজের ভাষা ছাড়া অন্যের ভাষা চর্চা করেনা। এমনকি তাদের অনেকেই ইংরেজী জানা সত্বেও আমাদের সঙ্গে নিজের ভাষার বাইরে কোনো কথা বলে না। কিন্তু আমাদের দেশের সেভাবে ভাষার চর্চাই নেই।’
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন টেলিভিশন ও রেডিও খুললে যেসব ভাষা শুনতে পাই, তা আসলে বাংলা ভাষা নয়। এগুলো কোনো ভাষার মধ্যেই পড়ে না। আসলে ওই জায়গাগুলো হলো শিল্প চর্চার জায়গা, তাই এসব জায়গায় অন্তত ভাষাকে সুন্দর ও সাবলীল করা উচিত। কেননা আমাদের ভাষা অন্যান্য ভাষার চাইতে অনেক সুন্দর। এটা নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত।’
‘অনেক গরীব ও ছোট দেশেও তাদের মাতৃভাষার সর্বত্র ব্যবহার হয়। তারা রাস্ত-ঘাট ও সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে সবত্রই নিজ ভাষার ব্যবহার করে। কিন্তু আমরা আমাদের শিল্প চর্চার জায়গুলো তথা রেডিও টেলিভিশনেও এর সঠিক ব্যবহার করতে পারি না’ – বলে যোগ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বাচ্চারা বড় না হতেই অন্য ভাষা নিয়ে পড়াশুনায় ব্যস্ত থাকে। যার ফলে সে তার নিজ সংস্কৃতি সম্পর্কেই জানতে পারে না। আর একটু বড় হলে শুরু হয় জিপিএ-৫ নির্যাতন। কোথায় ভাষা আর কোথায় সংস্কতি! আসলে এসব ব্যাপারে মা-বাবার দৃষ্টিরভঙ্গির পরিবর্তন করা উচিত। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, আইনস্টাইন কি জিপিএ-৫ পেয়েছিল? মূল কথা হলো, তথ্য ও জ্ঞান দুটি আলাদা জিনিস। তাই প্রকৃত জ্ঞানটুকু নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে নিতে হবে।’
বাংলা একাডেমির সভাপতি অ্যামিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘কয়েকদিন আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাংলা শিক্ষকদের কাছ থেকে জানলাম- এখন ছাত্ররা মনে করে এইচএসসি পাশ করলেই বাংলার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়। কেননা, যারা মেডিক্যাল ও বিজনেস নিয়ে পড়ে তাদের কোনো বাংলা পড়তে হয়না। ছাত্ররা এইচএসসি পর্যন্ত শুধু পাশ করার জন্য বাংলা পড়ে। তাই বাংলাদেশের ছাত্র হয়েও তারা বাংলায় সবসময় দুর্বল। যেটা জাতি হিসেব দুর্ভাগ্যজনক।’
আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বাংলা ভাষাকে যদি ভালোবাসি, তাহলে আমাদের মনের খোরাকের জন্য এটা পড়া উচিৎ। আমরা ভাষা শহিদদের স্মরণে যত কথাই বলি না কেন, তাদের মমতায় আমরা এই ভাষাকে এখনো ভালোবাসতে পারিনি।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জমান সুবহানী এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে নিবিড় পঠন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

