কুমিল্লা প্রতিনিধি : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণের কাজ ২০১৫ সালেও শেষ হচ্ছে না। প্রকল্পের কাজের ধারাবাহিকতা এমনটাই ইঙ্গিত করছে।
মহাসড়কে চলমান কাজের কারণে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম অংশসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার এলাকায় কারপেটিং দেবে উঁচু-নিচুতে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় ঈদে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে এ সড়কে যাতায়াতকারীদের।
‘চলতি বছরের (২০১৫ সালের) মে-জুন নাগাদ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসা যাওয়া করা যাবে। জুনের মধ্যে চার লেন প্রকল্প সম্পন্ন হয়ে যাবে, জুনের পর থেকে টুকিটাকি কাজ বাকি থাকবে।’ ২০১৪ সালের শেষের দিকে (৬ ডিসেম্বর রোববার) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাজ পরিদর্শনে এসে সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।
সে সময় মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মহাসড়কের ৯৪ কিলোমিটার অথাৎ চারলেনের ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৪টি বাইপাসের অধিকাংশই কুমিল্লা অংশে। এই ১৪টি বাইপাসের কাজ ৭৫ ভাগ শেষ হয়েছে। মার্চ ২০১৫ এর মধ্যে কাজ শেষ করা হবে এবং এগুলোর কাজ শেষ হলে মহাসড়কের ২৯ কিলোমিটার পথ দূরত্ব কমে যাবে।
অথচ বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর। মন্ত্রীর টার্গেট অতিক্রম করেছে। কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। মহাসড়কটির কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দক। মহাসড়কের ওইসব অংশে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে যানবাহন। ঈদের আগে এগুলোর মেরামত করা না হলে ঘরমুখো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে। এমনটাই মনে করছেন যাত্রী এবং যানবাহনের চালকরা।
মহাসড়কের কুমিল্লায় ৯৮ দশমিক ৮০ কিলোমিটার এলাকা রয়েছে। চৌদ্দগ্রামের প্রায় ৪০ কিলোমিটার অংশে মহাসড়ক দেবে গেছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যানজট সৃষ্টি হয়ে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করছে। নির্ধারিত সময়ে চার লেনের কাজ শেষ না হওয়ায় মহাসড়কের এমন পরিস্থিতি বলে মনে করছেন সবাই।
২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ করার টার্গেটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ২শ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি কাজ শুরু হয় ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৬শ ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হয়ে কখনো মাটির সঙ্কট, কখনো অর্থ সঙ্কট, কখনোবা বৃষ্টির অজুহাতে বিলম্বিত হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের কাজ।
তবে যথা সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার জন্যে রাজনৈতকি অস্থিরতা অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেন চারলেন কাজের প্রকল্প-২ এর ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাসুদ সারোয়ার।
প্রকৌশলী মাসুদ সারোয়ার বলেন, ‘চার লেনের কুমিল্লা অংশে তিনটি প্রকল্পের অধীনে কাজ চলছে। প্রকল্প-১-এর অধীনে দাউদকান্দি থেকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার। প্রকল্প-২-এর অধীনে আলেখারচর থেকে চৌদ্দগ্রামের নানকরা পর্যন্ত ৪১ কিলোমিটার। আর প্রকল্প-৩-এর অধীনে নানকরা থেকে মোহাম্মদ আলী এলাকা পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার।’
প্রকৌশলী মাসুদ সারোয়ার বলেন, ‘আমার প্রকল্প-২-এর আওতাভুক্ত মহাসড়কের দেবে যাওয়া উঁচু-নিচু এলাকার কিছু অংশ সমান করে দেয়া হয়েছে।’
প্রকল্প-৩-এর উপপ্রকল্প ব্যবস্থাপক জয় প্রকাশ চৌধুরী বলেন, ‘বৃষ্টি না হলে ঈদের আগে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা শিগগিরই দেবে যাওয়া অংশের সংস্কার করব।’
তবে বৃষ্টি আর মাটির অজুহাত যাই হোক না কেন বর্তমান গতিতে কাজ চললে ২০১৫ সালেও কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

