নিজস্ব প্রতিবেদক : নানা জ্বল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে দিন তারিখ নির্ধারণ হয়ে গেলো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) তৃতীয় আর মাঠে গড়াবে কবে থেকে। একই সঙ্গে নির্ধারিত হলো অংশগ্রহণকারী ৬টি দল এবং কে কোন দল পেলো, সেটাও। ২২ নভেম্বর পর্দা উম্মোচন হবে বিপিএলের। জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্যই দিয়েই এবারের বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির।
২২ নভেম্বর উদ্বোধন হলেও উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে একদিন বিরতি দিয়ে, ২৪ নভেম্বর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং উদ্বোধনী ম্যাচ- দুটোই অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। তবে শুধুই মিরপুরে নয়, এবার বিপিএলকে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে আরও দুটি বিভাগীয় শহরে। ঢাকা ছাড়াও বিপিএলের ম্যাচগুলো আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম এবং খুলনায়ও। অথ্যাৎ, মোট তিনটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে বিপিএল তৃতীয় আসরের ম্যাচগুলো। আর এই তিনটি ভেন্যুর টাইটেল স্পন্সর হিসেবে বিপিএলের সঙ্গে থাকছে বিআরবি ক্যাবলস।
আজ (বুধবার) অনুষ্ঠিত বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে তৃতীয় আসর আয়োজনের নানা দিক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মিডিয়ার সামনে বিষয়গুলো তুলে ধরেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা, সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিবি পরিচালক এবং মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, খালেদ মাহমুদ সুজন এবং বিসিবির সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন।
সংবাদ সম্মেলনেই জানানো হয় বিপিএল উদ্বোধনের তারিখ। সেখান থেকেই বলা হয়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি আকর্ষণীয় করার উদ্যোগ রয়েছে বিসিবির। তবে কিভাবে কী করা হবে, সেটা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে জানিয়ে দেয়া হবে। একই সঙ্গে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে কোন দুটি দল সেটাও নির্ধারণ হয়নি। কারণ, ৬টি ফ্রাঞ্চাইজি মাত্রই ভাগ করা হয়েছে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে ড্র। তখনই জানা যাবে কারা মুখোমুখি হচ্ছে উদ্বোধনী ম্যাচে। তবে, এই ম্যাচটি হবে দিবা-রাত্রির।
সংবাদ সম্মেলনেই নিশ্চিত করা হয়, বিপিএলে অংশ নিচ্ছে মোট ৬টি দল। এর মধ্যে ঢাকার ফ্রাঞ্চাইজি পেয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপ। চট্টগ্রামের ফ্রাঞ্চাইজি পেয়েছে ডিবিএল গ্রুপ। বরিশালের ফ্রাঞ্জাইজি দেয়া হয়েছে এক্সিওম টেকনোলজিকে। রংপুরের ফ্রাঞ্চাইজির মালিকানা পুরনো কোম্পানি আই স্পোর্টসের (ফ্লোরা টেলিকম) কাছেই রয়েছে। সিলেট রয়্যালস এবারও রয়েছে। তবে এই ফ্রাঞ্চাইজিটির মালিক পক্ষ রয়্যাল স্পোর্টিং এবার বেছে নিয়েছে কুমিল্লার ফ্রাঞ্চাইজি। এ কারলে সিলেট দেয়া হয়েছে, আলিফ গ্রুপকে। এই গ্রুপটি আগের দুই আসরে ছিল বরিশাল বার্নার্সের মালিক। আর ফ্রাঞ্চাইজি হওয়া থেকে বাদ পড়েছে খুলনা এবং রাজশাহী বিভাগ। গতবার ছিল খুলনা রয়্যাল বেঙ্গল এবং দুরন্ত রাজশাহী।
সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, এবার যাতে বিপিএল সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে আয়োজন করা যায় সে জন্য বিসিবির আওতাধীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো পুরো টুর্নামেন্টে মনিটর করবে। একই সঙ্গে বিসিবি থেকে এটাও আশা করা হচ্ছে যে, পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত থেকে স্বচ্ছভাবে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা সম্ভব হবে। কারণ, পুরনো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে বিসিবি। সে কারণে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এমনকি ফ্রাঞ্চাইজিগুলো যাতে কোন সমস্যা করতে না পারে, সে জন্য নেয়া হয়েছে ব্যাংক গ্যারান্টিও।

