ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোত কমর্রত প্রায় ৪০% শিক্ষকের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র পদ্ধতি ও প্রণয়ন সম্পর্কে কোনো প্রশিক্ষণ নেই।
প্রশিক্ষণের অভাবে কিছু শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করাতে পারে না। আবার অনেক শিক্ষক আছেন যারা সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্রও প্রণয়ন করতে পারেন না। এতে করে ওইসব বিদ্যালয়ের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় ক্রয় করা প্রশ্নপত্র কিংবা সৃজনশীল সহায়ক বইয়ের প্রশ্নপত্র দিয়ে।
গৌরীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ও পৌর শহরে ৩৭টি মাধ্যমিক মিলিয়ে বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে এর একটি হচ্ছে গৌরীপুর আর কে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী বলেন, ‘এখানে কর্মরত ১৮ জন শিক্ষকের সবারই সৃজনশীল প্রশ্নপত্র পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ রয়েছে। আবার সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি প্রণয়ন সম্পর্কে কোনো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নেই উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের গুজিখা দেওয়ানবাগী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।’
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খালেদা পারভীন বলেন, ‘এখানে কর্মরত কোনো শিক্ষকের সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি ও প্রণয়ন সম্পর্কে কোনো প্রশিক্ষণ নেই।’ বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষাগুলোতে কীভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষক সমিতির কাছ থেকে প্রশ্নপত্র ক্রয় করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিচ্ছি।’
গৌরীপুর উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত কতজন শিক্ষকের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র পদ্ধতির বিষয়ে প্রশিক্ষণ আছে জানার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে এর সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩৭টি বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা ৪০২ জন।
শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, টিচিং কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট ও সেকেন্ডারি ইমপ্রুভমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আনুমানিক আড়াইশতাধিক শিক্ষককে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি প্রণয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বাকি শিক্ষকদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। উপজেলায় এমন অনেক বিদ্যালয়ে আছে যেখানে শিক্ষার্থীর তুলানয় পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। শিক্ষক সঙ্কটের কারণে সেই বিদ্যালয়গুলোতে খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে, যাদের সৃজনশীল বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ নেই। ফলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গাইড বা সহায়ক বইয়ের উপর নির্ভর হয়ে পড়ছে। এতে করে সৃজনশীল শিক্ষা ব্যাবস্থার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।
কথা হয় উপজেলার নুরুল আমিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৪০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। ১৪জন কর্মরত শিক্ষকের মাঝে ৮ জন শিক্ষকের সৃজনশীল বিষয়ে প্রশিক্ষণ আছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর পরিমাণ বেশি হওয়ায় পাঠদানের জন্য কয়েকজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই।’
প্রশিক্ষণ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করেন কীভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে সকল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ আছে তাদের পরামর্শ ও সহোযোগিতা নিয়েই পাঠদান ও প্রশ্নপত্র প্রণয়ণ করা হয়। পাশাপাশি সমিতির তৈরি করা প্রশ্নপত্র ক্রয় করেও বিদ্যালয়ের পরীক্ষা নেয়া হয়।’
উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৃজনশীল পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো। এ পদ্ধতিতে নকল বন্ধ হয়েছে। তবে সৃজনশীল পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষকদের যে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয়। প্রশিক্ষণের সময়টা আরো বাড়ানো উচিত। কারণ স্বল্পসময়ে এই পদ্ধতি শিক্ষকরা পুরোপুরি আয়ত্ত করতে না পারায় শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন অন্ধকারে। বিশেষ করে গ্রামঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে এই সমস্যা প্রকট।
গৌরীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এনামুল হক সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্রয় করা প্রশ্নপত্র সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকা ও আর্থিক সঙ্কটের কারণে কিছু বিদ্যালয় সমিতির তৈরি করা প্রশ্নপত্র ক্রয় করে পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। কারণ নিজেরা প্রশ্নপত্র তৈরি করে ছাপাতে গেলে অনেক টাকা খরচ হয়। শিক্ষকরা নিজেরা প্রশ্নপত্র করলে ভালো। এতে শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ে।’
গৌরীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘উপজেলার যে সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষক রয়েছে তাদের তালিকা করে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’

