নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে আজ মঙ্গলবার সকাল ৯ টা থেকে। চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। একজন যাত্রীকে সর্বাধিক ৪টি টিকিট দেয়া হবে।
কমলাপুর স্টেশনের ২০টি কাউন্টার থেকে আজ দেয়া হচ্ছে আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের যাত্রার টিকিট। ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন ছাড়া হবে ৪৮ হাজার টিকিট।
সকালে শুরু থেকেই ছিল কমলাপুর রেল স্টেশনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। এ টিকিট বিক্রি আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে দেয়া হবে ফিরতি টিকিট। চলবে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট স্টেশন হতে ফিরতি টিকিট বিক্রি করা হবে।
পাশাপাশি প্রতিদিনের চেয়ে ৭০ হাজার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের টার্গেট নিয়ে ঈদের তিন দিন আগে ( ২২-১৪ সেপ্টেম্বর) এবং ঈদের পরের ৭দিন ( ২৭ সেপ্টেম্বর-৩ অক্টোম্বর) ৫ জোড়া ও ঈদের দিন শোলাকিয়া ২ জোড়াসহ মোট ৭ জোড়া বিশেষ ট্রেন সার্ভিসের ব্যবস্থা নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন রেলওয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার যাত্রী পরিবহন করে। ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন ২ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী পরিবহনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে কমলাপুর স্টেশন সূত্রে জানা গেছে।
প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে প্রথম দিনই ট্রেনের টিকিট কিনতে এসে সেই চিরাচরিত ভোগান্তির শিকার হয়েছে রেলের টিকিট প্রত্যাশীরা। ২০টি কাউন্টারেই কাজে ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। সেই সঙ্গে ঠেলাঠেলি আর ভ্যাপসা গড়মে অল্প সময়েই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন টিকিট সংগ্রহে আসা যাত্রীরা। প্রতি কাউন্টারের লাইন স্টেশনের বাইরে গিয়ে ঠেকেছে।
আবার অনেক আজানের সময় কমলাপুর রেল স্টেশনে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। পেপার বিছিয়ে লাইনে বসে সময় কাটিয়েছেন। টিকিট পাওয়ার জন্য আবার অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন কমলাপুর রেল স্টেশনে বসে। তবে যিনি এসব ভোগান্তি অতিক্রম করে টিকিট পেয়েছেন তার মুখে ছিল হাসির ঝিলিক।
মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় রাজধানীর অন্যতম রেল স্টেশন কমলাপুরে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়। প্রতি ঈদেই ট্রেনের আগাম টিকিট কিনতে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় ১০ থেকে ১৭ নং কাউন্টারে। টিকিট বিক্রির প্রথম দিনও এর ব্যতিক্রম দেখা গেলো না। সকাল ৯ টা থেকে দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়।
আজ রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক কমলাপুর রেল স্টেশন পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
বিক্রি হওয়া টিকিট ফেরত নেয়া হবে না। এদিকে টিকিট কালোবাজারি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ। এজন্য কমলাপুর রেলস্টেশনে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতও।
প্রতিটি ট্রেনের ২৫ শতাংশ টিকিট সেলফোন ও অনলাইনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া ভিআইপি কোটায় ৫ শতাংশ, রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৫ শতাংশ ও বিশেষ কোটায় ১০-১৫ শতাংশ টিকিট রাখা হচ্ছে। এতে প্রতিটি ট্রেনের অর্ধেক টিকিটই কাউন্টারে বিক্রি করা হবে না।
রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ট্রেন চলাচলে যাতে সিডিউল বিপর্যয় না ঘটে সে জন্য ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেনের ‘অফ ডে’ থাকবে না।
তিনি জানান, আজ ১৫ সেপ্টেম্বরের টিকিট বিক্রি হবে ২০ সেপ্টেম্বরের টিকিট, ১৬ সেপ্টেম্বরের ২১ সেপ্টেম্বরের, ১৭ সেপ্টেম্বরের ২২ সেপ্টেম্বর, ১৮ সেপ্টেম্বরের ২৩ সেপ্টেম্বর ও ১৯ সেপ্টেম্বরের বিক্রি হবে ২৪ সেপ্টেম্বরের টিকিট।
রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান বলেন, এবারও ঈদের আগে পাঁচ দিন ও ঈদের পরের সাত দিন স্পেশাল ট্রেন সার্ভিসের মাধ্যমে সেবা দেয়া হবে। এর মধ্যে ঈদের আগে মোট সাত জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলবে।

