নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর টিউশন ফির উপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
বৈঠক সূত্রে আরো জানা যায়, গতকাল রাত থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদের সিনিয়র মন্ত্রীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আরোপিত ভ্যাট নিয়ে কথা বলেন। এরপরই ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তিনি নিজের সিদ্ধান্ত জানান। মন্ত্রিপরিষদের বেশিরভাগ সদস্যই এটিকে স্বাগত জানান।
এদিকে ভ্যাট প্রত্যাহারের সংবাদ আন্দোলনকারীদের কাছে পৌঁছলে আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়ে তারা।
উল্লেখ্য, গতকাল রোববারই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি’র ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ভ্যাট নিয়ে যে জটিলতা হয়েছে, সে বিষয়টির একটি সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছানো যাবে। শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে।’
তিনি বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট নিয়ে যে জটিলতা দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে সরকার অনড় নয়। গত ছয় বছরে আমরা অনেক বিষয়ে পর্যালোচনা করেছি।’
একই সময় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ভ্যাট সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান করা হবে।’
উল্লেখ্য, ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে রাস্তায় নেমেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রথমে রাজধানীর রামপুরায় ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এসময় পুলিশ তাদের ওপর গুলিও চালায়। এ ঘটনার পরই মূলত আন্দোলন আরো জোরালো হয়। সঙ্গে যোগ দেয় বেসরকারি মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্ররা।
এছাড়া এনবিআর, অর্থমন্ত্রী ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিক সমিতির পরস্পর বিরোধী বক্তব্য এ আন্দোলনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। আন্দোলন ক্রমেই দেশব্যাপি ছড়িয়ে পড়ে। সোমবারও সারাদেশে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।

