পাঞ্জেরী ডেস্ক : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল কলেজের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফিয়ের ওপর সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে ডাকা ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনের সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। কোনোধরনের নাশকতা এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।
কোথাও কোনো ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া না গেলেও সড়ক অবরোধে যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের রিপোর্টারদের পাঠানো সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি করা হল।
রামপুরা: সকাল থেকেই ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে এসে মিলিত হয় শিক্ষার্থীরা। তারা ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নিয়ে ভ্যাটবিরোধী বিভিন্ন রকম স্লোগান দিয়ে যাচ্ছিল। সড়ক অবরোধ করবে কি না এ নিয়ে আন্দোলনের নেতারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন বলেও জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত সাড়ে ১০টার দিকে তারা সড়কে এসে যান চলাচল আটকে দেয়। এসময় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেয়াদের মধ্যে কাঁকন বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা সরকারকে ২ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম, আমাদের দাবি মেনে না নেয়া হলে আন্দোলন চলবে।’
পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী মাকসুদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছি, ক্যাম্পাসে চলে যেতে। তারা আমাদের কথা শুনছেন না। তবে যত দ্রুত চলে যাবেন, ততেই তাদের মঙ্গল।’
ধানমণ্ডি: সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর সোবহান থেকে শুক্রবাদ পর্যন্ত মানববন্ধন করে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা একটি মিছিল সহকারে ২৭ নম্বর এলাকায় গিয়ে সড়ক অবরোধ করে। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিকে ঘিরে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
রমনা জোনের এডিসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ছাত্রদের আন্দোলনে বাধা দেয়ার কোন পরিকল্পনা নেই, তবে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার চেষ্টা করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
মহাখালী: ১০টা থেকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা পথচারী ও যাত্রীদের কাছে লিফলেট বিলি করে। লিফলেটে তারা নগরবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘শিক্ষা কোন পণ্য নয়, শিক্ষা ব্যবসাকে পণ্য বানানোর জন্য ভ্যাট চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থার থেকে পরিত্রাণের জন্য এবং দেশের স্বার্থেই আমরা এ আন্দোলন করছি। এজন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।’
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী সমবেত হয়েছে এবং দলে দলে আরো শিক্ষার্থীরা এসে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে। পুলিশী বাধার কারণে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করতে পারেনি।
রাগিব নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, সব শিক্ষার্থীরা এখনো এসে পৌঁছেনি। আরো শিক্ষার্থী সমবেত হলেই তারা সড়ক অবরোধ করবে।
বনানী: বনানীর কাকলীতে রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান নিয়েছে ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এআইইউবি, সাউথ-ইস্ট, সাউথ-এশিয়া, নর্দানসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন এই অবরোধে।
তবে রাস্তা থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়া হবে কিনা সে ব্যাপারে কিছু বলতে চাচ্ছেন না পুলিশ কর্মকর্তারা।
শক্তি প্রয়োগ করে শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে তুলে দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি। এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো যাবে না। ’
বনানী পুলিশ ফাঁড়িতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলছিল এ সময়। সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হৃদয় হাসান বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলা করিনি। কেবল গাড়ি আটক করে রাখছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা ছাড়বো না।’
‘পুলিশ তুলে দেয়ার চেষ্টা করলেও আমরা জীবন দিয়ে হলেও দাবি আদায়ের চেষ্টা করবো’- বলেন তিনি।
অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমানুল্লাহ আমান, ‘আমরা কিছুক্ষণ আগে আন্দোলন শুরু করলাম। বিকেল-৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এখানে অবস্থান করবো। এরপর কী হবে বুঝতে পারছি না।
বসুন্ধরা-গেট: সকাল সাড়ে ১০টায় বসুন্ধরা আবাসিকের গেটে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে নর্থসাউথ এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে দু’পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।
মহাসড়কে নামার আগে ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সমবেত হয়। তারপর সেখান থেকে তারা একযোগ বসুন্ধরা মেইন গেটে এসে অবস্থান নেয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নতুন বাজার থেকে কুড়িল বিশ্বরোডের দিকে যাওয়া গাড়ি আটকা পড়েছে। আর সে কারণে যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে যেতে বাধ্য হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচিতে এখনো কোনো বাধা প্রদান করেনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর এক সদস্য বলেন, ‘আমাদের রিজার্ভ ফোর্স রয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ফোর্স এসে পড়বে। তখন শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে প্রতিহত করা হবে।’

