স্পোর্টস ডেস্ক : খোদ অস্ট্রেলিয়াতেই হুমকির মুখে ক্রিকেট! পাঁচবার বিশ্বকাপ জেতা এবং এক দশক বিশ্বসেরা দল হিসেবে থাকার পরও, ক্রিকেটার সঙ্কটের আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া। কিশোর-তরুণরা আর ক্রিকেট সেভাবে পছন্দ করছে না। তাদের মায়েরাও চান না ছেলেরা ক্রিকেট খেলুক। ক্রিকেট খেলাকে তারা সময়ের অপচয় বলেই মনে করছেন। ছেলেদের তাই ক্রিকেট খেলতে নিরুৎসাহিত করছেন তারা।
অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ক্রিকেটের অবস্থান পাঁচ নম্বরে। সে দেশে ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবল অনেক এগিয়ে। তিন লাখ এক হাজার শিশু খেলে ফুটবল। আর ক্রিকেট খেলে এমন শিশুর সংখ্যা মাত্র এক লাখ চব্বিশ হাজার দুশো জন। বিস্ময়কর হলেও সত্য, দ্বিতীয় স্থান দখলে রয়েছে সাঁতারের। বিশ্বখ্যাত সাঁতারু ইয়ান থর্পের দেশে এটা অস্বাভাবিক নয়। দুই লাখ তেরো হাজার শিশু সাঁতারের সঙ্গে জড়িত। টেনিস খেলে এক লাখ আটাশ হাজার তিনশোজন শিশু।
ক্রিকেটের এ অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন নিউ সাউথ ওয়েলস ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ। শিশুদের ক্রিকেটে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তারা টেলিভিশন প্রচারনায়ও নেমেছেন। অস্ট্রেলিয়ার নাক উঁচু এলিট শ্রেণীকে এড়িয়ে তারা টার্গেট করেছেন ভারতীয় ও সুদানিজ অধ্যুষিত কৃষ্ণাঙ্গ শহরে ব্ল্যাক টাউনকে।
ওয়েলস ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ বলছেন, আমরা চাই ভারতীয়রা এগিয়ে আসুক ক্রিকেটের দিকে। আমরা তাদের বেশি সুযোগ দিতে চাই। সুদানিজদের দিকে নজর দেওয়ার কারণ, তাদের উচ্চতা। একহারা গড়নের এসব ছেলের উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত। এদের মধ্যে কার্টলি অ্যামব্রোজকে আবিষ্কার করতে চাই।
ওয়েলস কর্তৃপক্ষ এদের ক্রিকেট সুবিধা বাড়ানোর জন্য ২০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারও বরাদ্দ দিয়েছেন। টিভি প্রচারের কয়েক বছর আগে থেকেই মাইকেল ক্লার্ককে তারা মডেল হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এই প্রচারে জুনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে অনলাইনে নাম নিবন্ধনের জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। নিউ সাউথ ওয়েলসে বর্তমানে ১ লাখ ৮ হাজার রেজিস্টার্ড ক্রিকেটার রয়েছে।

