নিজস্ব প্রতিবেদক : ঘোষিত অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১ তম গ্রেডে পূণনির্ধারণসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি।
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সভাপতি নাসরিন সুলতানা।
তিনি বলেন, সহকারী শিক্ষকরা ক্রমাগত বৈষ্যম্যের স্বীকার হচ্ছেন এবং এই বৈষ্যম্য না কমিয়ে বরং আরো বাড়ানো হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকও সহকারী শিক্ষদের মধ্যে বেতনের পার্থক্য ছিল এক ধাপ, ২০০৬ সালে বেতন স্কেলের পার্থক্য বাড়িয়ে করা হয় দুই ধাপ।
তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে বেতন ব্যবধান তিন ধাপ বাড়িয়ে ১২০০ টাকা করা হয়েছে। সর্বশেষ ঘোষিত অষ্টম পে-স্কেলে বিদ্যমান বেতন ব্যবধান পূর্বের তিন ধাপেই রাখা হয়েছে। ১৯৭৩ সালে একজন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মধ্যে বেতনের ব্যবধান ছিল মাত্র ১০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে মূল বেতনের ব্যবধান ২৩০০টাকা করা হয়েছে।তিনি বলেন, শিক্ষক হিসেবে এই বেতন কাঠামো আমাদের জন্য অমানবিক, এবং অবমাননাকরও।
ঘোষিত অষ্টম বেতন স্কেল, বৈষম্য বৃদ্ধির বেতন স্কেল উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির সুযোগ না দিয়ে টাইম স্কেল বাতিলের সিদ্ধান্তে সহকারী শিক্ষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
তিনি ঘোষিত বেতন স্কেল পুনঃনির্ধারণ করে সহকারী শিক্ষকদের দাবি সমূহ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষার সকল দায়িত্ব পালন বর্জন এবং কর্মবিরতি পালনের মতো কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, সহ-সভাপতি মনির হোসেন প্রমুখ।

