ঢাকাFriday , 11 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ছিনতাইকারীদের আখড়া যাত্রাবাড়ী, আতঙ্কে পথচারী

Link Copied!

chintaiনিজস্ব প্রতিবেদক : ভোর সাড়ে ৫টা, দিনের আলো ফোটেনি তখনো। রাজধানীর সায়েদাবাদের ব্যস্ত সড়কটি ছিল শুনশান। ভোরের সেই নীরবতায় ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে একদল যুবক। ১০-১২ জনের ওই দলটির সামনে যে পড়েছে, তারই যেন সর্বনাশ! ছুরি দেখিয়ে, মারধর করে হাতিয়ে নিয়েছে টাকা, মানিব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। আর যে বাধ সেধেছে তার শরীরে বসিয়ে দিয়েছে ধারালো ছুরি।
বৃহস্পতিবার ভোরে যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের ব্রিজের কাছে ইসলামী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় এভাবেই ঘটে এক ‘গণছিনতাইয়ের’ ঘটনা। ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন- ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল মোবারক হোসেন (৩২), তার স্ত্রী সুমি আক্তার (২৫) ও ঢাকা কলেজের ছাত্র রাশেদ (২১) । আহতরা বলছেন, ভোরে ১০-১২জনের ওই ছিনতাইকারী দলটির সামনে যারা পড়েছে তারাই ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সায়েদাবাদ, সূতিরখালসহ যাত্রাবাড়ীর কয়েকটি স্পটে সম্প্রতি ভোরে বেপরোয়া ছিনতাই শুরু হয়েছে। গত বুধবার ভোরেও সূতিরখাল এলাকায় দুই যুবককে ছুরিকাঘাত করেছে ছিনতাইকারীরা। প্রতিদিন ভোরে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও সামান্য টাকা ও মোবাইল ফোন খোয়ানোর কারণে ভুক্তভুগীরা থানায় অভিযোগ দিচ্ছেন না। গত ৬ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ীর পাশের কদমতলী এলাকায় মোহাম্মদ সুমন নামে এক ক্রোকারিজ ব্যবসায়ীকে গুলি করে পাঁচ লাখ টাকা লুটে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। একইদিন ওয়ারীতে পুলিশের গুলিতে আকাশ ওরফে ফেরদৌস নামে এক ‘ছিনতাইকারী’ নিহত হয়। যাত্রাবাড়ী এলাকার পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ছিনতাইকারী চক্রটিকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছেন তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার ছুরিকাঘাতে আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পুলিশ কনস্টেবল মোবারক হোসেন ও তার স্ত্রী সুমিকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আহত মোবারক জানান, তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের পশ্চিম ট্রাফিক বিভাগে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। স্ত্রীকে নিয়ে সায়েদাবাদ স্টাফ কোয়ার্টারের পাশে ভাড়া বাসায় থাকেন মোবারক। তার স্ত্রী সুমি আশুলিয়ায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি বাসে করে সায়েদাবাদে পৌঁছান। এসময় মোবারক স্ত্রীকে নিতে বাসটার্মিনালে যান। তারা দু’জন হেঁটে বাসায় যাচ্ছিলেন। মোবারক বলেন, ব্রিজের কাছে ইসলামী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় যেতেই ১০-১২ জনের একটি ছিনতাইকারী দল তাদের ঘিরে ধরে। একজন তার পায়ে ছুরিকাঘাত করে এবং অন্যজন তার স্ত্রীর কানের দুল ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ছিনতাইকারীরা তার কাছে থাকা পাঁচ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। একই সময়ে ঢাকা কলেজের ছাত্র রাশেদকে ছুরিকাঘাত করে তার মানিব্যাগ এবং মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। এই পুলিশ কনস্টেবল আরো জানান, এ সময় আরো বেশ কয়েকজন ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। সড়ক দিয়ে যেই যাচ্ছিলেন তাকেই ছিনতাই করছিল দলটি। তাদের কয়েকজনের হাতে ছুরি ছিল। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
ঢাকা কলেজের স্নাতকের ছাত্র রাশেদ বলেন, ‘আমরা থাকা অবস্থায়ই সাত-আটজকে ছিনতাই করে দলটি। তারা খুব স্বাভাবিকভাবে কাজটি করে হেঁটে চলে যাছিল। পরে কয়েকজন পুলিশও আসে। তাদের আমরা ঘটনা বলেছি। তবে কাউকে ধরতে পেরেছে কি না জানি না।’
জানা গেছে, গত বুধবার ভোরের একই সময় সূতিরখাল এলাকায় আমিনুল ইসলাম (৩০) ও খোকন খান (৩৩) নামে দুই যুবকের বাম হাতে ছুরিকাঘাত করে একইভাবে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়া হয়। পরে দু’জনকেই ঢামেকে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ভোরেই সায়েদাবাদ, কতরতিটোলা, ধলপুর, সুতিরখাল, শনিরআখড়া, শহীদ ফারুক সরনি, ধোলাইপারসহ কোনো না কোনো সড়কে এভাবে গণছিনতাই ঘটছে। বেশ কয়েকজন ছিনতাইকারী একটি সড়ক দিয়ে ছিনতাই করে এগিয়ে যায়। তাদের কবলে পড়ে টাকা, মোবাইল খোয়ালেও ‘ঝামেলা’ এড়াতে কেউ থানায় যাচ্ছেন না। হতাহতের ঘটনা ঘটলে খবরটি প্রকাশ পায়। তবে এরপরও কেউ মামলা করতে চায় না। গত দু’দিনের ঘটনায়ও রাত পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি বলে জানা গেছে।
ঢামেক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুন রফিকুল ইসলাম জিন্দার নামে এক মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ২৮ মার্চ ভাঙা প্রেস এলাকায় কামাল হোসেন নামে এক ঝুট ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ৪৬ হাজার টাকা ও দু’টি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। গত ১৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে দু’জন ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হন।
গত ৬ সেপ্টেম্বর কদমতলীতে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সুমনকে গুলি করে পাঁচ লাখ টাকা ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা। গত ১৫ মে করাতিটোলা এলাকায় পুলিশের গুলিতে এক ছিনতাইকারী নিহত হয়।
যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবনী শংকর কর বলেন, ‘ছিনতাইয়ের ঘটনার পরপরই পুলিশ অ্যাকশনে যায়। কিন্তু তার আগেই ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। তাই এখনো মামলা হয়নি। এলাকায় ছিনতাইকারীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। প্রায়ই এ ধরনের অপরাধী ধরা পড়ছে।’