নিজস্ব প্রতিবেদক : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহার হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘যে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, তা প্রত্যাহার করা হবে না।’ মন্ত্রী এই ভ্যাটকে ‘রাজস্ব সংগ্রহের অন্যতম উৎস’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের রাজস্ব সংগ্রহের উৎস কোথায়? বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আরোপিত ভ্যাট রাজস্ব সংগ্রহের একটি ভালো উৎস হতে পারে।’
সিলেট সার্কিট হাউসে বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৪টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।
২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি’র উপর ভ্যাট পরিশোধ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, শিক্ষার্থীর নয়। বিদ্যমান টিউশন ফি’র মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় টিউশন ফি বাড়বে না।
ভ্যাট আরোপের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে তারা আন্দোলনে নামে। গত বুধবার রাজধানীর রামপুরার প্রধান সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। বৃহস্পতিবারও রাজধানীর কয়েকটি স্থানে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছে তারা।
এদিকে, শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘আমার বক্তব্যের জন্য আমি দুঃখিত।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকরা শিক্ষকদের আন্দোলন সম্পর্কে আমার বক্তব্য জানতে চাইলে আমি বলি, এটা অকারণে শুরু হয়েছে। এই আন্দোলন আমাকে পীড়া দেয়। কারণ আন্দোলনটা দেশের শিক্ষিত গোষ্ঠী করছেন। তারা সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত না হয়েই আন্দোলন করছেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘জ্ঞানের অভাবে তারা আন্দোলন করছেন, আমি এটা বোঝাতে চাইনি। আমি বোঝাতে চেয়েছি- তারা যথাযথ তথ্য না জেনেই আন্দোলন করছেন। তবে আমার বক্তব্যে যেহেতু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, সেহেতু আমি দুঃখিত। আমার বক্তব্য অনভিপ্রেত ছিল। আমি আমার বক্তব্য প্রত্যাহার করছি। এখন ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক।’
গত মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শিক্ষকদের আন্দোলনের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এরপর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্থমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করার আহ্বান জানান বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।
সম্প্রতি ঘোষিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অষ্টম বেতন স্কেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবনমনের প্রতিবাদ এবং স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
মন্ত্রী ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের পদোন্নতির হার অস্বচ্ছ’ বলেও মন্তব্য করেন।

