নিজস্ব প্রতিবেদক : অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণের দাবিতে আগামী রোববার ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন। তবে ক্লাস না নিলেও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে শিক্ষকরা ওই দিন পরীক্ষা নেবেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে প্রভোস্টের কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন বৈঠবে এ সিদ্ধান্ত হয়।
ফেডারেশনের মহাসচিব ও ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা রোববার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবো, তবে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বরও একই কর্মসূচি পালন করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এর মধ্যে সরকার যদি আলোচনার প্রস্তাব দেন তাহলে শিক্ষকরা অবশ্যই সে আলোচনায় যোগ দেবেন। কর্মসূচির বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত হবে।’
উল্লেখ্য, এর আগেও একই দাবিতে কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।
স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবি এবং অর্থমন্ত্রীর ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত’ মন্তব্যের প্রতিবাদে গতকাল বুধবারও কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন দেশের সাতটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।
গত সোমবার মন্ত্রিসভায় নতুন অনুমোদিত জাতীয় বেতনকাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদাহানি ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে- এমন দাবিতে গত মঙ্গলবার কর্মবিরতি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকেরা।
ওই দিনই শিক্ষকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী জ্ঞানের অভাবে আন্দোলন করছে।’ এই বক্তব্যে গতকাল বুধবার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষকেরা। তারা মন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। বৃহস্পতিবার অবশ্য মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন।
এদিকে শিক্ষকদের এই আন্দোলনকে বিএনপি সমর্থন করে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ। গতকাল বুধবার জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
দেশে বর্তমানে ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

