ঢাকাThursday , 10 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেড়েছে মশার উৎপাত, উদ্যোগহীন দুই ডিসিসি

Link Copied!

cityনিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীতে টানা বর্ষণে রাস্তাঘাট, নালা-নর্দমায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে বেড়েছে মশার উপদ্রব। শুধু রাতে নয়, ২৪ ঘণ্টাই ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নগরবাসী।
উপদ্রপ বাড়লেও মশা নিধনের বিষয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কোনো কার্যকারী উদ্যোগ নেই। দুই সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ কর্মকর্তাই ধারণা করেছিলেন, টানা বর্ষণে মশার ডিম নষ্ট হয়ে যাবে এবং অধিকাংশ মশা মারা যাবে। কিন্তু এবার পুরোপুরি উল্টো হয়েছে।
কর্মকর্তারা ভুল ধারণা পোষণ করে রাজধানীতে মশার ওষুধ ছিটানোর ব্যাপারে নিষ্ক্রিয় থেকেছেন। এমনকি গত ২০ আগস্ট মশক নিধন দিবসেও সিটি করপোরেশনের কোনো কর্মসূচি ছিল না।
এ কারণে রাজধানীতে ভয়াবহভাবে বেড়েছে মশা অত্যাচার। বস্তি থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকা পর্যন্ত সবখানেই মশক বাহিনীর রাজত্ব। তাদের আক্রমণে ভোগান্তি এখন চরম পর্যায়ে।
মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদ হোসেন বলেন, ‘আমার ছোট একটা মেয়ে আছে। বয়স দেড় বছর। মশার যন্ত্রণায় মেয়েকে নিয়ে পড়েছি দারুণ বিপাকে। প্রায় সারা দিন বাসার মধ্যে স্প্রে করতে হয়। তারপরও মশা কমছে না। বাসায় ছোট বাচ্চা থাকায় মশার কয়েল জ্বালানো নিষেধ। তাই কয়েলও ধরাচ্ছি না।’
মিরপুরের আরেক বাসিন্দা রফিকুল হক বলেন, ‘গত মাসে বাসা বদল করে চারতলায় উঠেছি। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি।’
রাজধানীর লালবাগে বসবাসকারী হাসান আহমেদ বলেন, ‘মশার কথা আর কি বলব! সারা দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে রাতে একটু শান্তিতে ঘুমানো যায় না। ঘুম তো দূরের কথা, ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করা যায় না। ভন ভন করে মশা উড়ে এসে খাবারের প্লেটে পড়ে। চোখে দেখলে তুলে ফেলি অন্যথায় খেয়ে ফেলি। এতটাই সুখে আছি আমরা নগরবাসী।’
জানা গেছে, গত মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত মশক নিধন কর্মসূচিও হাতে নেয়নি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এ ছাড়া গত ২৮ এপ্রিল মেয়র নির্বাচনের পর দুই মেয়র কিছু পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি হাতে নিলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা পর্যাপ্ত ছিল না। ফলে দিন দিন বেড়েছে মশার বিস্তার।
রাজধানীর মশা নিয়ন্ত্রণে প্রতিবছরই কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে সিটি করপোরেশনের। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।
রাজধানীর মহাখালী, আজিমপুর, লালবাগ, বাবুবাজার, সূত্রাপুর, কামরাঙ্গীরচর, আরমানিটোলা, আরামবাগ, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, জুরাইন, খিলগাঁও, কুড়িল, মোহাম্মদপুর, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রবের কথা জানা গেছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে। মশা নিয়ন্ত্রণে জনবল সংকটের চেয়ে সিটি করপোরেশনের অব্যবস্থাপনাকেই বেশি দায়ী করছেন নগরবাসী।
মশা নিধনের বিষয়ে তৎপর রয়েছে ডিসিসি, এমন দাবি করলেও বাস্তবতা পুরোপুরি উল্টো। নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যা হতেই ঢাকা চলে যায় মশার দখলে। মশার জ্বালায় ত্রাহি ত্রাহি অবস্থায় রাত কাটাচ্ছেন রাজধানীবাসী। বস্তি থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকা পর্যন্ত সর্বত্রই মশার আক্রমণে ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রাজধানীতে মশা নিধনে ডিসিসির কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও মেলেনি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তাই নগরবাসীর প্রশ্ন- এত টাকা ব্যয় হচ্ছে কোথায়?
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মাসুদ হাসান বলেন, ‘মশা নিধনে সিটি করপোরেশন তৎপর রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা নিয়মিত কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি। মশা নিধনে আমাদের পর্যাপ্ত বরাদ্দও রয়েছে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মশা নিধনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ করে শীত ও বর্ষা মৌসুমে মশার প্রকোপ কিছুটা বাড়ে। নগরীর বিভিন্ন ডোবা, খাল এবং লেকে কচুরিপানার কারণে মশার উৎপাত বেশি হয়। এর পরেও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, বর্ষার সময় মশার ওষুধ স্প্রে করা যায় না। করলেও সেটি কাজে আসে না। এ জন্য পর্যাপ্ত ফগিং করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া বর্ষার সময় বদ্ধপানি পাওয়া যায় না। সকালবেলায় যে মশা মারার ওষুধ স্প্রে করার কথা, সেটি করা যাচ্ছে না। আবার সন্ধ্যায় উড়ন্ত মশা মারার জন্য যে লার্ভিসাইড স্প্রে করা প্রয়োজন, সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। তবে মশার ওষুধের কোনো ঘাটতি নেই। প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট রয়েছে। বৃষ্টির মাত্রা কমলেই মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।’