নিজস্ব প্রতিবেদক : মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির সাজার বিরুদ্ধে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর করা আপিলের শুনানি আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে উভয়পক্ষকে যুক্তিতর্কের সামারি (সার সংক্ষেপ) লিখিত আকারে আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন।
আজ সকালে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলার আপিলের পেপার বুক পাঠ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভেকেট মাহবুবে আলম। বেলা পৌনে বারোটার দিকে নিজামীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট (অন রেকর্ড) জয়নুল আবেদীন তুহিন নিজামীর বিরুদ্ধে ১ নম্বর অভিযোগের ৩ জন সাক্ষির জবানবন্দি আদালতে পড়ে শোনান। বেলা সোয়া ১টায় আজকের মতো এ মামলার শুনানি শেষ করা হয়। পরে আগামী ৩ নভেম্বর শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়।
আজ আদালতে নিজামীর পক্ষে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন।
পরে আদালত থেকে বেরিয়ে শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ৩ নভেম্বর থেকে এ মামলার পেপার বুক পড়া শুরু হবে।
এর আগে আজ সকালে আপিল শুনানি পেছাতে আসামিপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়ে শুনানি শুরুর নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।
তখন প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে আপিলের পেপার বুক উপস্থাপন শুরু করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর মতিউর রহমান নিজামীর মামলায় রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ।
রায়ে ১৬ টি অভিযোগের মধ্যে আটটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে বুদ্ধিজীবী গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পত্তি ধ্বংস, দেশত্যাগে বাধ্য করার অপরাধে রায়ে নিজামীর ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়।
আটটির মধ্যে বাকি ১, ৩, ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে আটক, নির্যাতন, হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সংঘটনে সহযোগিতার দায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। বাকি অন্য আট অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তকে ওইসব অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর দেয়া এ রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের ২৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী।
৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার আপিলে ফাঁসির আদেশ বাতিল করে খালাস চেয়েছেন নিজামী। মোট ১৬৮টি কারণ দেখিয়ে এ আপিল করা হয়।

