অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিমালার ব্যাপক সংশোধনী আনা হচ্ছে। যুক্ত হচ্ছে অনলাইনে ক্রয় আদেশের নিয়ম। সেই সঙ্গে সংশোধনী অনা হচ্ছে অনলাইনে ক্রয়নীতি। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) সংশোধনী প্রস্তাব করেছে।
মঙ্গলবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ (মুদ্রণ ২০১৩) এর সংশোধনে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ক্রয় নীতিমালার বেশকিছু বিধিতে পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বৈঠক জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত আইন : (এলটিএম) সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত প্লাস-মাইনাস ৫ ভাগ সীমা নির্ধারিত আছে। সেটাকে পরিবর্তন করে ১০ ভাগ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ক্রয় অভিজ্ঞতার আর্থিক সীমা ২ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটিতে নেয়া হচ্ছে। এমনকি এই সীমায় যৌথ উদ্যোগে নেয়া যাবে না বলে সংশোধন আনা হচ্ছে।
সংশোধনীতে দাপ্তরিক প্রক্কলিত মূল্যের ১০ ভাগ পর্যন্ত কম হলে কার্য সম্পাদন জামানত চুক্তি মূল্যের ১০ ভাগ, মূল চুক্তিতে প্রত্যাশিত সম্প্রসারিত সমাপ্তির তারিখ থেকে প্রতিদিন বিলম্বের জন্যে ঠিকাদার চুক্তি নির্ধারিত দৈনিক বা সপ্তাতিক হারে বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ এবং ঠিকাদারের ত্রুটির কারণে ক্রয়কারী কর্তৃক চুক্তিবাতিল করিলে ক্রয়কারী নিজস্ব বিবেচনায় ঠিকাদারকে ন্যূনতম এক বছর অনধিক দুই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রয় কাযক্রমে অংশগ্রহণের অযোগ্য বলে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।
এদিকে আন্তজার্তিক উন্মুক্ত দরপত্রের ক্ষেত্রে এক ধাপ দুই খাত পদ্ধতির প্রবর্তন করা হচ্ছে। বর্তমান আইনে নিয়মটি শুধু অভ্যন্তরীণ ক্রয় ক্ষেত্রে বিদ্যমান এখন উভয় ক্ষেত্রে প্রজোয্য হবে। একটি মাত্র প্যাকেজ বা চুক্তির ক্ষেত্রে মূল্য ছাড় (ডিসকাউন্ট) প্রয়োগ করা যাবে। এর আগে একাধিক প্যাকেজের ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য ছিল।
বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ফার্মকে ৫ ভাগ কার্যসম্পাদন জামানত রাখতে হবে। এছাড়াও একটি ফার্মকে একাধিক দরপত্র না দেয়ার সংশোধনীর প্রস্তাব করা হলেও টেন্ডার ক্যাপাসিটি আর্থিক সক্ষমতা ভিত্তিতে তা নির্ধারণের সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়।
আন্তজার্তিক টেন্ডারের ক্ষেত্রে মূল দরপত্রদাতা তার স্থানীয় এজেন্ট বা অথোরাইজ সিগনেটরির নামে দরপত্র জামানত না নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আগের আইনে আন্তজার্তিক টেন্ডারের ক্ষেত্রে এজেন্ট বা সিগনেটরির নামে দরপত্র দেয়া হতো। এ সংশোধনীর ফলে মূল দরপত্রদাতাকে টেন্ডার ক্রয় করতে হবে।
অন্যদিকে জেলা পর্যায়ে টেন্ডার ক্রয়ের ক্ষেত্রে দরপত্রদাতাকে কমপক্ষে একটি জাতীয় পত্রিকা ও বহুল প্রচারিত ২টি বাংলা স্থানীয় পত্রিকায় (যদি থাকে) বিজ্ঞাপন দেয়ার বিধান করা হচ্ছে। আগের আইনে বহুল প্রচারিত দুইটি স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হতো।
বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এখন বিষয়টি চূড়ান্ত নয়। আরো আলোচনা পরিবর্তন হতে পারে।
কাজের গতি বাড়ানো, দরপত্রের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক নিম্নদর প্রতিরোধ ও অনিয়ম ঠেকাতে এই সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়।
বৈঠকে পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনা ও অর্থপ্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান,পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের সচিব মেজবাউদ্দিনসহ সিপিটিইউ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলেন জানা যায়।

