স্পোর্টস ডেস্ক : মাইকেল ক্লার্ক ও ক্রিস রজার্সের পর এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালেন আরেক অস্ট্রেলিয়ান তারকা ব্রাড হাডিন। সদ্য শেষ হওয়া অ্যাশেজ সিরিজের দল থেকে পারিবারিক কারণে নিজের নাম প্রত্যাহার করার পর আর জাতীয় দলে সুযোগ পাননি হাডিন। যে কারণে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানান তিনি। এর আগে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের পর ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।
অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টের পর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দল থেকে সরে দাঁড়ান ব্রাড হাডিন। এরপর সিরিজের বাকি চারটি টেস্টে আর দলে জায়গা পাননি এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। টেস্ট দলে জায়গা করে নেয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়া বাদ দিয়ে মাইকেল ক্লার্ক ও ক্রিস রজার্সের পথ ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন তিনি। বুধবার এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতি টানার ঘোষণা দেন হাডিন।
দুদিন আগে অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন ওয়ানডে ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে প্রলম্বিত করার লক্ষ্যে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানান। এর আগে অ্যাশেজ সিরিজের আগে হাঁটুর ইনজুরিতে পড়ে পেসার রায়ান হ্যারিসও টেস্ট ক্রিকেটকে গুডবাই জানান। ফলে ক্লার্ক, রজার্স, ওয়াটসন, হ্যারিস ও হাডিনের বিদায়ের ফলে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।
২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হন ব্রাড হাডিন। জাতীয় দলের হয়ে ৬৬ টেস্টে ৪টি সেঞ্চুরি ও ১৮টি হাফ সেঞ্চুরির সাহায্যে ৩২.৯৮ গড়ে ৩ হাজার ২৬৬ রান করেন ব্রাড হাডিন। তার চারটি সেঞ্চুরির তিনটিই এসেছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। উইকেটরক্ষক হিসেবে ২৭০টি ডিসমিসাল করেন তিনি। হাডিনের চেয়ে দেশের হয়ে কেবল অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ইয়ান হিলি ও রডিন মার্শ টেস্টে বেশি ডিসমিসাল করেন। তবে তারা হাডিনের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচেও অংশ নেন।
ব্রাড হাডিনের বিদায়ে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে অস্ট্রেলিয়ান কোচ ড্যারেন লেহম্যান বলেন, ‘এটি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য দুঃখের দিন। কেননা, সে ছিল একজন অসাধারণ খেলোয়াড়, অনেক তরুণ ক্রিকেটারের কাছে সে ছিল উপদেষ্টা। আমার জন্যও সে ছিল দারুণ সাহায্যকারী।’

