ঢাকাTuesday , 8 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস

Link Copied!

literacy_dayনিজস্ব প্রতিবেদক : কেউ কেউ মনে করেন, নাম লিখতে পারলেই সে সাক্ষর। সরকারেরও কারো কারো মধ্যে এ ধারণা প্রচলিত আছে। আন্তর্জাতিক সংজ্ঞানুযায়ী, সাক্ষরতা হচ্ছে পড়া, অনুধাবন করা, মৌখিকভাবে ও লেখার বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যাখ্যা করা, যোগাযোগ স্থাপন করা এবং গণনা করার দক্ষতা।
অর্থাৎ সাক্ষরতা বলতে লিখতে, পড়তে, গণনা করতে ও যোগাযোগ স্থাপন করার সক্ষমতাকে বোঝানো হয়। সাক্ষরতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে অন্তত তৃতীয় শ্রেণি পাস করা শিক্ষার্থীর সমমানের হতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। একটি জাতিকে অগ্রসর জাতিতে পরিণত হতে সাক্ষরতা জ্ঞানের বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ।
সাক্ষরতা দিবসের এই লগ্নে দুঃসংবাদ হলো, কমে গেছে দেশে সাক্ষরতা হার। আর সে দুঃসংবাদটি নিজেই জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী। রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, দেশে সাক্ষরতার হার ৬১ শতাংশ। যা গত বছরে তার দেওয়া হারের চেয়ে চার শতাংশ পয়েন্ট কম। মন্ত্রী আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। মন্ত্রী জানান, ২০১৩ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরোর করা জরিপ অনুযায়ী সাক্ষরতার এই হার নির্ধারণ করা হয়েছিল। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ সাক্ষর; আর নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা আড়াই কোটি।
১৯৯৬ সালের ১৭ নভেম্বর ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কো। সেই থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের আন্তর্জাতিক এ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘সাক্ষরতা আর দক্ষতা, টেকসই সমাজের মূল কথা।’ ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সমাজের মধ্যে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য তুলে ধরার লক্ষ্যে এ দিবসটি নির্ধারণ করা হয়। প্রতিবছর এ দিবসটি উদযাপনের মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দেশের সাক্ষরতা এবং বয়স্ক শিক্ষার অবস্থা তুলে ধরা হয়।
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে প্রথম সাক্ষরতা দিবস উদযাপিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার সাক্ষরতা বিস্তারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করে আসছে।
দিবসটি উপলক্ষে সারাদেশে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নানা কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শিক্ষার অপরিহার্যতার কথা উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষার হার উন্নয়নের মাপকাঠিও বটে। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত।
তিনি বলেন, দক্ষ মানুষই জনসম্পদ হিসেবে বিবেচিত। জনসম্পদ একটি জাতির উন্নয়নের চাবিকাঠি। ‘রূপকল্প ২০২১’-এর অন্যতম মূল লক্ষ্য হচ্ছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়া এবং বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা। বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত গতিতে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। বিশ্বব্যাংকের ২০১৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আশা করা যায় বাংলাদেশ ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে সক্ষম হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সুশিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ অপরিহার্য। একবিংশ শতকের এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার সরকার দেশের নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষর ও জীবন দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
আজ ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। শোভাযাত্রায় শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে রোববারের সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে সরকার সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ‘মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প’ নামক একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলায় ১৫-৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা প্রদান করা হবে। এ বিশাল কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য দেশের সকল পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি সংস্থা/ প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, মানসম্মত শিক্ষার বিষয়টি আমাদের দেশে যেভাবে গুরুত্ব পাওয়ার কথা, সেভাবে পায়নি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। আমরা সকলেই জানি, শিক্ষা জাতির মেরুদ-। কিন্তু সে শিক্ষা হতে হবে মানসম্পন্ন।
শিক্ষার নামে নানাভাবে ব্যবসা ফাঁদা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের, এমনকি ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনাও চোখে পড়ছে এখন। আবার অভিযোগ উঠেছে প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে সার্টিফিকেট বিতরণের।
এ ধরনের তথ্য প্রায়ই আসে গণমাধ্যমে। দেশের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে দেশবাসীর কাছে অত্যন্ত আস্থাভাজন। তার সময়েই যদি শিক্ষার নামে জেঁকে বসা দুষ্টচক্রগুলোকে নিবৃত্ত না করা যায়, তবে ভীষণ হতাশ হওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না আমাদের।