স্পোর্টস ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের মধ্যে টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার মিছিল শুরু হয়েছে। সেই মিছিলের সর্বশেষ সংযোজন অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন। রোববার তিনি সাদা পোষাকের ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিয়েছেন। তার শেষ টেস্ট হয়ে থাকলো এবারের অ্যাশেজে কার্ডিফের প্রথম টেস্টটি। যেখানে ১৬৯ রানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের দর্শকরাও মিস করবে ওয়াটসনকে। কারণ এ মাসের শেষের দিকে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফর করবে অস্ট্রেলিয়া।
অসি ক্রিকেটারদের অবসরের মিছিল শুরু হয়েছিল অ্যাশেজ শুরুর আগেই। চোটের সঙ্গে বসবাস রায়ান হ্যারিস আরেক দফা চোটে পড়ে প্রথম বিদায় বলে দিলেন টেস্ট ক্রিকেটকে। ২-৩ ব্যবধানে হার দেখলে বোঝার উপায় নেই অ্যাশেজে কি পরিমাণ নাকানিচুবানি খেয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
কিন্তু ট্রেন্টব্রিজে ৬০ রানে অলআউট হওয়া দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে জঘন্য পারফরম্যান্স। একে তো অ্যাশেজ হার তারওপর নিজের ব্যাটও কথা বলছিল না মাইকেল ক্লার্কের হয়ে। তাই অনেকটা চাপে পড়েই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন ক্লার্ক। অ্যাশেজ খেলে বিদায় নেবেন এমন ইঙ্গিত আগেই দেওয়ায় ওপেনার ক্রিস রজার্সের বিদায়ে কোনও বিস্ময় নেই।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকে লড়াকু মনোভাবের ওয়াটসনের হঠাৎ বিদায়ে একটু বিস্ময় থাকছেই। ৩৪ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার কার্ডিফে ব্যাট হাতে করেছিলেন ৩০ ও ১৯। বল হাতে থেকেছেন উইকেটশূণ্য। এমন সাদামাটা পারফরম্যান্সের কারণে পরের চার টেস্টের একটিতেও সুযোগ পাননি।
ওয়াটসন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইটে অবসরের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার জন্য সহজ ছিল না। গত মাস থেকেই এটা নিয়ে ভাবছিলাম।’ এরপর যোগ করেন, ‘আমি জানি এটাই উপযুক্ত সময়। আশা করি সংক্ষিপ্ততর ফরম্যাট ওয়ানডে এবং টি২০ ক্রিকেট চালিয়ে যেতে পারবো।’
ওয়াটসন অস্ট্রেলিয়াকে একটি টেস্ট এবং নয়টি ওয়ানডেতে নেতৃত্বও দিয়েছেন। গত শনিবার লর্ডসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেও খেলেছেন। কিন্তু কাফ ইনজুরিতে পড়ে সিরিজ শেষ হয়ে গেছে ওয়াটসনের। বিদায়বেলায় তিনি স্বীকার করেছেন টেস্ট ক্রিকেটের জন্য লড়ার মানসিকতা তার মধ্যে আর নেই। মানসিকভাবে ওয়াটসনকে অবসাদ পেয়ে বসেছে।
তার ভাষায়, ‘আমি শুধু জানি সরে যাওয়ার এটাই সঠিক সময়। টেস্ট ক্রিকেটে লড়াই করার মতো সত্যিকারের মানসিকতা আর নেই। শারীরিকভাবে, মানসিকভাবে এবং টেকনিক্যালি যা টেস্ট ক্রিকেটের জন্য দরকার সেটা আমি দিতে পারছি না। তাই এই সিদ্ধান্তই ঠিক বলে মনে হয়েছে।’
২০০৫ সালে সিডনিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিষিক্ত ওয়াটসন সবমিলিয়ে খেলেছেন ৫৯টি টেস্ট। ৩৫.১৯ গড়ে রান করেছেন ৩ হাজার ৭৩১। চার সেঞ্চুরির বিপরীতে করেছেন ২৪টি ফিফটি। সর্বোচ্চ রান ১৭৬। বল হাতে ৭৫ উইকেট নিয়েছেন ৩৩.৬৮ গড়ে।

