অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) ২০১৫-১৬ মেয়াদের নতুন কমিটি এ মাসেই দায়িত্ব নিচ্ছে। মাসের শেষ সপ্তাহে বর্তমান কমিটি দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পারে বলে বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, এবার বিজিএমইএ-এর নির্বাচনে মোট পরিচালক পদের চেয়ে অতিরিক্ত তিনটি মনোনয়নপত্র তোলা হয়। পরবর্তীতে এসব অতিরিক্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে ৩৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনী বোর্ড গত ১৫ আগস্ট তাদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে।
এবার ঢাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ২৬ জন পরিচালক। তারা হলেন: সিদ্দিকুর রহমান, ফারুক হাসান, এস এম মান্নান, মোহাম্মদ নাছির, ফেরদৌস পারভেজ, মাহমুদ হাসান খান, মিজানুর রহমান চৌধুরী, শহিদুল হক, এনামুল হক খান, আবদুল্লাহ হিল রাকিব, মাহিদুল ইসলাম খান, কামাল উদ্দিন, এম এ রহিম, আশিকুর রহমান, মনসুরুল হক, মিরন আলী, মুনীর হোসেন, ইকবাল হামিদ কোরেশী, আতিকুল করিম খান, আনোয়ার কামাল পাশা, নাছির উদ্দিন, রেজওয়ান সেলিম, সৈয়দ সাদিক আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, সাজ্জাদুর রহমান মৃধা ও মেজবাহ উদ্দিন আলী।
চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত ৯ পরিচালকের মধ্যে রয়েছেন: মঙ্গনউদ্দিন আহমেদ, মো. ফেরদৌস, এ এম মাহবুব চৌধুরী, সেলিম রহমান, আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, এ এন এম সাইফুদ্দিন, সাইফুল্লাহ এবং মাহবুব উদ্দীন।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনটির নেতৃত্ব প্রত্যাশীরা দুই ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে একটি সম্মিলিত পরিষদ ও অপরটি ফোরাম। দুই পক্ষের মধ্যে আগামী দুই মেয়াদের কমিটি সম্পর্কে সমঝোতার হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে এবার অর্থাৎ ২০১৫-১৬ ইং মেয়াদের কমিটিতে সম্মিলিত পরিষদ থেকে সভাপতি, ৪ সহ-সভাপতিসহ ১৪ পরিচালক এবং ফোরাম থেকে ৩ সহ-সভাপতিসহ ১৩ জন পরিচালক পদে থাকবেন। আর ২০১৬-১৭ মেয়াদে ফোরাম থেকে সভাপতি, ৪ সহ-সভাপতিসহ ১৪ পরিচালক এবং সম্মিলিত পরিষদ ৩ সহ-সভাপতিসহ ১৩ জন পরিচালক পদে থাকবেন।
নির্বাচনী বোর্ডের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলামিন বলেন, বিনা প্রতিদন্দ্বীতায় নির্বাচিত ৩৫ জন পরিচালকের মধ্য থেকে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর সভাপতি ও ৭ জন সহ-সভাপতি নির্বাচিত হবেন। এরপর বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) মাধ্যমে বর্তমান কমিটি নব-নির্বাচিতদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। ঈদের আগেই নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সূত্রে জানা গেছে, নিয়মানুযায়ী বিজিএমইএ-এর নির্বাচন গত মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই বাণিজ্য মন্ত্রনালয় থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ বেশকিছু নির্দেশনা সংগঠনটিকে দেয়া হয়। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সময় লাগার কারণে পিছিয়ে যায় নির্বাচন। সেই সুযোগে সংগঠনটির সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পর কমিটির নেতা নির্বাচনের বিষয়ে ২৫ জুন চূড়ান্ত দুই পক্ষে সমঝোতা হয়। সমঝোতায় সংগঠনের নেতৃত্ব আগামী দুই মেয়াদে কীভাবে হবে তার রূপরেখা চূড়ান্ত হয়। পরবর্তীতে নির্বাচনী বোর্ড নির্বাচনের তারিখ ও মনোনয়নপত্র ওঠানো ও প্রত্যাহারের সময় নির্ধারণ করে দেয়। নির্ধারিত সময়ে মনোনয়নপত্র তুললেও সমঝোতার কারণেই অতিরিক্ত মনোনয়পত্রগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন ৩৫ জন পরিচালক।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৩ সালের মার্চে বিজিএমই-এর নির্বাচনে আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদের প্রার্থীরা ২৭টি পরিচালক পদের ২১টিতে জয়ী হয়। আর ফোরাম ৬টি পরিচালক পদে জয়ী হয়।

