চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : পেঁয়াজের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বাজারে আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে বিকল্প উৎস থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ। দীর্ঘ আট মাস পর দেশের বাজারে প্রবেশ করেছে মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ।
এছাড়া পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসর থেকেও আসছে পেঁয়াজ। সরবরাহ বাড়ায় দাম কমছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরো কমবে বলে জানিয়েছেন দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। তবে কিছুটা চড়া দামে বিক্রয় হচ্ছে রসূন ও আদা।
খাতুনগঞ্জের আড়গুলোতে সরজমিনে দেখা গেছে, কেজিপ্রতি পেঁয়াজ দেশ ভেদে ৪৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়। ইন্ডিয়ান (নাসিক) প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, ইন্ডিয়ান সাউথ (বড়) প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬২ টাকা, ইন্ডিয়ান সাউথ (ছোট) প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, পাকিস্তানী প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, তুরস্ক প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ও মিয়ানমার প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। যা গত পাঁচ দিন ধরে স্থিতিশীল রয়েছে।
এছাড়া, রসূন কেজি প্রতি দেশ ভেদে ৬৫ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চায়না রসূন প্রতি কেজি ৯০ থেকে ৯৫ টাকা ও দেশি রসূন প্রতি কেজি ৬৮ থেকে ৭২ টাকা। চায়না আদা বিক্রয় হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। কোরবানির ঈদের আগে আরো বাড়তে পারে।
খাতুনগঞ্জের মের্সাস জনতা এর্ন্টাপ্রাইজের মালিক মো. মুছা বলেন, ‘পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাড়ায় বাজারে দাম কমেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মিসর ও চীন থেকে প্রচুর পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে। আসার পথে রয়েছে আরো বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ। অতি শিগগরিই বাজার আরো স্থিতিশীল হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘ আট মাস পর দেশের বাজারে প্রবেশ করেছে মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ। ইতোমধ্যেই কয়েকশ’ টন পেঁয়াজ টেকনাফ স্থলবন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে যা পাওয়া যাচ্ছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে। এই সপ্তাহেই বাজার সয়লাব হবে মিয়ানমারের পেঁয়াজে।’
মেহের ট্রেডার্সের ম্যানেজার রুহুল আমীন বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের পেঁয়াজ আসায় ভারতের পেঁয়াজের একক আধিপত্য কমে গেছে। মিয়ানমার থেকে আসা এসব পেঁয়াজের দাম ভারতীয় পেঁয়াজের থেকে অনেক কম। কেজি প্রতি পেঁয়াজের দাম মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। সরবরাহ এরকম থাকলে দাম আর বাড়ার আশঙ্কা নেই। তবে রসূন ও আদা কিছুটা চড়া দামে বিক্রয় হচ্ছে।’
বিক্রেতারা আরো জানান, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পেঁয়াজের আকার বড় হওয়ায় হোটেল-রেস্টুরেন্টে এর কদর বেশি। হোটেল-রেস্টুরেন্টের বেশ চাহিদা মিটাচ্ছে এই পেঁয়াজ। এছাড়া মিয়ানমারের পেঁয়াজের দাম অপেক্ষকৃত কম হওয়ায় খুচরা বিক্রেতরা তা বেশি ক্রয় করছে।

