হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রশাসনকি অনুমোদনের ৭ মাস পরও কোনো অগ্রগতি নেই হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের। নিয়োগ করা হয়নি প্রকল্প পরিচালকসহ কোনো লোকবল। নেই কোনো যন্ত্রপাতি। নেই অস্থায়ী ক্যাম্পাসও। ফলে এক মাস পর অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি পরীক্ষায় হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ শহরের নিউফিল্ড মাঠে আওয়ামী লীগের বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি মেডিকেল কলেজ ও একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ১২ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মাহমুদা আক্তার ২৪/(১০) স্মারক ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেন। প্রশাসনিক অনুমোদনের পর জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এক সভায় হবিগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতালকে অস্থায়ী কেম্পাস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি হোস্টেল করার জন্য নির্ধারণ করা হয় পুরাতন হাসপাতালের অব্যবহিত একটি জায়গাকে। জেলা প্রশাসন উন্নায়ন (ডিপিপি) প্রনয়নের জন্যও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এর কিছুদিন পর মন্ত্রণালয় থেকে একজন যুগ্মসচিবের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল হবিগঞ্জে এসে অস্থায়ী ক্যাম্পাস ও সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করে। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ চালুর কথা ঘোষণা করেন।
এদিকে, জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনাসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বারবার একটি পত্র প্রেরণ করে এ বছরের ২৫ মে। পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও জনবলের তথ্য পাঠানো হয়। প্রায় শত কোটি টাকার পরিকল্পনার বাইরে জনবল দেখানো হয় অধ্যক্ষ ও শিক্ষকসহ প্রয়োজন ১৮৩ জন। পরিচালকসহ প্রশানিক ক্ষেত্রে ৯২৫ জন প্রয়োজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো টাকাই বরাদ্ধ হয়নি, একজন লোকবলও নিয়োগ করা হয়নি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পানা মন্ত্রণালয় ২৭ জুলাই সচিবালয়ে এক সভায় ২০১৫-১৬ শিক্ষার্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের নিমিত্তে বজ্ঞপ্তির সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে যে মেডিকেল কলেজের তালিকা হয় তাতে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের নাম উল্লেখ নেই। এতে করে অনিশ্চিক হয়ে যায় হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি।
এদিকে, জানুয়ারিতে ক্লাস শুরু করার জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সরঞ্জামাদী সংগ্রহ ও লোকবল নিয়োগের মত কাজ শুরু না হওয়ায় আশা আলো দেখছেন না হবিগঞ্জের শিক্ষর্থীরা।
হবিগঞ্জ সিভিল সার্জন ড. নাসির উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘এ অনিশ্চিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পয়োজনীয় দিক নির্দেশনা পেতে চলতি বছরের ১১ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক বরাবরে পত্র প্রেরণ করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন উত্তর আসেনি।’
তিনি বলেন, ‘সব কিছুই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ হবে বলে আমি আশাবাদী।’
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আব্দুর রউপ বলেন, ‘আমরা চিঠি পাওয়ার পরপরই অস্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য তিনটি স্থান নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করেছি। এখন দেখা যাক কী হয়।’

