ঢাকাSunday , 6 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সালমান শাহর মতো আর কেউ এল না

Link Copied!

Salman-Inবিনোদন ডেস্ক : সালমান শাহ ছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নব্বইয়ের দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুদর্শন নায়ক। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র জীবনে তারুণ্যপ্রাণে ঝড় তুলেছিলেন তিনি। মৃত্যুর পর ১৯ বছর পেরোলেও আজও তিনি ভক্তদের হৃদয়ে অমলিন। আজও তার স্থানটি দখল নিতে পারেনি অন্য কোনো নায়ক। ১৯৯৬ সালের এইদিনে চলচ্চিত্র দর্শকদের কাঁদিয়ে চির বিদায় নিয়েছিলেন আবেগপ্রবণ সুপারস্টার। সালমান শাহর জন্ম সিলেটে, ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭০ সালে। আজ তাকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।
কেয়ামত থেকে কেয়ামত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রজগতে পদার্পণ সালমান শাহর। প্রথম ছবিতেই হিট। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক সুপারহিট চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে গেছেন। সালমান শাহ অভিনীত মোট চলচ্চিত্রের সংখ্যা ২৭টি। সবচেয়ে বেশি ছবিতে জুটি বেঁধেছেন শাবনূরের সঙ্গে- ১৪টি। শেষ চলচ্চিত্র বুকের ভেতর আগুন।
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বেশ কিছু টিভি নাটকে ও বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন সালমান শাহ। তার অভিনীত একক নাটকগুলো হলো : আকাশ ছোঁয়া, দোয়েল, সব পাখি ঘরে ফেরে, সৈকতে সারস, নয়ন, স্বপ্নের পৃথিবী এবং ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে রয়েছে পাথর সময় এবং ইতিকথা। মিল্ক ভিটা, জাগুরার কেডস, গোল্ডস্টার টি, কোকাকোলা, ফানটা এ সকল বিজ্ঞাপনচিত্রেও মডেল হিসেবে অভিনয় করেন।
চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণের কিছু পরেই সামিরাকে বিয়ে করেছিলেন সালমান। লাখো ভক্তকে কাঁদিয়ে হঠাৎ করে আত্মহত্যা করার পরে সন্দেহের আঙ্গুল স্ত্রীর দিকেই উঠেছিল। হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ উঠলেও তার কোনো আইনি সুরাহা হয়নি এখনো। সালমান শাহর বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী এবং মা নীলা চৌধুরী।
চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরুর আগেই সালমান শাহ কিছু নাটক এবং বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছিলেন। আশির দশকের শেষ ভাগে হানিফ সংকেতের গ্রন্থনায় ‘কথার কথা’ নামে একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান প্রচারিত হতো। এরই কোনো একটি পর্বে হানিফ সংকেতের গাওয়া গানের মিউজিক ভিডিওতে সালমান শাহ মডেল হিসেবে অভিনয় করেন। পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আবার আলোচনায় আসেন তিনি।
পরিচালক মতিন রহমান সালমান শাহ সম্পর্কে তার এক নিবন্ধে তাকে একসময়ের রোমান্টিক যুবরাজ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, ‘না, মানুষ কখনো আত্মহত্যাকে বেছে নেয় না। সাধারণভাবে জীবনের আকাঙ্ক্ষা মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষার চেয়ে শক্তিশালী। তবুও মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা কখনো শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হয়। মৃত্যু সেই অর্থে মানুষের আকাঙ্ক্ষার ফল।’ মনোবিজ্ঞানী সিগমন্ড ফ্রয়েডের এই বাণী সত্যরূপে ধরা পড়েছিল নায়ক সালমান শাহর জীবনে।
তবে সবচেয়ে অবাক সত্যি এই, একসময়ের রোমান্টিক যুবরাজ আজও সমান জনপ্রিয়তায় বেঁচে আছেন দর্শকের মনোজগতে। জেগে আছেন তরুণ-তরুণীর তর্কে, স্মৃতিচারণায়। আবার আক্ষেপও করছেন ‘সালমান শাহর মতো আর কেউ এল না।’
কী এমন রসসম্ভার ছিল সালমান শাহর অভিনয়ে? কী এমন আকর্ষণ ছিল তার মাঝে, যার সামগ্রিক আবেদন কিশোর-কিশোরীদের নরম মনে জনপ্রিয়তার প্লাবন বইয়ে দিয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সালমান শাহ অভিনীত ২৭টি চলচ্চিত্র পাঠই যথেষ্ট। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ এই স্বল্প সময়ে সালমান শাহর প্রাপ্তি ছিল আকাশচুম্বী। এত সাফল্যের পরও তার জীবন কেমন ছিল, যা সালমান দীর্ঘায়িত করতে চাননি। নিজ যুক্তিতে স্বমুক্তি খুঁজেছেন? আনন্দ চুরি হওয়া জীবন থেকে বিদায় নিতে আত্মধ্বংসের পথ বেছে নিয়েছেন, যা আজও সবার কাছে অজানা সংবাদ হয়েই রইল।
সালমান শাহ খুলনা বয়রা মডেল হাইস্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় এসে ধানমন্ডির আরব মিশন স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৮৭ সালে ধানমন্ডির আরব মিশন স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তী সময়ে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি এবং মালেকা সায়েন্স কলেজ, ধানমন্ডি থেকে স্নাতক শেষ করেন।
ভক্তরা আজও সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন সালমান শাহর কবর জিয়ারত করেন। প্রিয় নায়কের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। তাদের ভাষ্য, ‘সালমান শাহ যদি আরো কিছু ছবি উপহার দিয়ে যেতে পারতেন, তাহলে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আরো কিছু কালজয়ী ছবি দর্শকরা পেত।’ সালমান ভক্তদের চিরকাল এই আফসোস রয়েই যাবে।