ঢাকাFriday , 4 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নে অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল

Link Copied!

studentনিজস্ব প্রতিবেদক : উচ্চ শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে অভিস্বীকৃতি বা অ্যাক্রিডিটিশেন কাউন্সিল করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর জন্য অভিস্বীকৃতি বা অ্যাক্রিডিটিশেন কাউন্সিল ২০১৫ নামে একটি আইনের খসড়া তৈরি করেছে মন্ত্রণালয়। খসড়ার বিষয়ে সবার মতামতের জন্য বৃহস্পতিবার তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। মতামতের ভিত্তিতে খসড়া চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি একটি কর্মশালায় শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘অ্যাক্রিডিটিশেন আইনের মাধ্যমে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে এক মানদণ্ডে যাচাই করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয় এর আওতায় থাকবে। এ আইনটি পাস হলে আমাদের দেশের উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়ন হবে বলে আমরা আশা করছি।’
অভিস্বীকৃতি বা অ্যাক্রিডিটিশেন কাউন্সিল আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, কাউন্সিলটির পূর্ণাঙ্গ নাম হবে- অভিস্বীকৃতি (অ্যাক্রিডিটিশেন) কাউন্সিল, যা একটি স্থায়ী সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের মধ্য থেকে একজনকে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। চেয়ারম্যানের মেয়াদকাল হবে চার বছর। সদস্য হিসেবে থাকবেন আরো ৮ জন। এর মধ্যে চার জন থাকবেন পূর্ণ সদস্য। এদের মথ্যে স্বীকৃত যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদমর্যাদার তিনজন শিক্ষক এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার নিচে নয় এমন একজন থাকবেন। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একজন পূর্ণকালীন সদস্য এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা মনোনীত একজন প্রতিনিধিকে কাউন্সিলের অবৈতনিক সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করা হবে।
সদস্য হিসেবে আরো থাকবেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাসোসিয়েশন মনোনীত একজন। বাংলাদেশের বাইরের স্বীকৃত কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ও অ্যাক্রিডিটেশন সংস্থার একজন বিশেষজ্ঞ এবং পেশাগত সংস্থার একজন প্রতিনিধিকেও এ কাউন্সিলের সদস্য করা হবে। সদস্যদের মেয়াদকালও হবে চার বছর। চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলের সদস্যরা দুবারের বেশি নিয়োগ পাবেন না। কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি এবং অন্যান্য নিয়োগ দেবেন শিক্ষামন্ত্রী। এছাড়াও কাউন্সিলের একজন সচিব থাকবেন, যিনি সংস্থাটি দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন।
কাউন্সিলের কার্যাবলি
আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, অভিস্বীকৃতি (অ্যাক্রিডিটিশেন) কাউন্সিল মূলত দেশের উচ্চশিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে গঠিত হবে। এর পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রাম ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিস্বীকৃতি এবং এ আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় বিধি ও প্রবিধিমালা প্রস্তুত করবে। মেডিকেল, প্রকৌশল, কৃষি, ব্যবসায়, আইনসহ প্রত্যেক ডিসিপ্লিনের জন্য পৃথক অ্যাক্রিডিটেশন কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটির গঠন ও কার্যাবলি বিধি দ্বারা পরিচালিত হবে।
সেই সঙ্গে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ‘কনফিডেন্স’ সনদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি প্রদান করে নির্ধারিত ফরমে কাউন্সিলে আবেদন করবে। কনফিডেন্স সনদ এক বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে। এ সময়ের মধ্যে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ‘অ্যাক্রিডিটেশন সনদ’- এর জন্য কাউন্সিল বরাবর আবেদন করতে হবে। কাউন্সিল কনফিডেন্স সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঁচ বছরের জন্য অ্যাক্রিডিটেশন সনদ দেবে।
থাকছে শাস্তির ব্যবস্থাও
আইন অনুযায়ী, অভিস্বীকৃতি (অ্যাক্রিডিটিশেন) কাউন্সিলের হাতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শাস্তি দেয়ারও ক্ষমতা থাকবে। অ্যাক্রিডিটেশন সনদপ্রাপ্ত কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান অ্যাক্রিডিটেশন সনদের শর্ত লঙ্ঘন করলে, সেটা প্রত্যাহারের ক্ষমতা রাখে কাউন্সিল। সেই সঙ্গে অ্যাক্রিডিটেশন সনদপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠান দোষী প্রমাণিত হলে খসড়া আইনে অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে কাউন্সিলের কোনো সিদ্ধান্তে কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংক্ষুব্ধ হলে আবেদনের বিধানও থাকছে।